আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দ্বীনের দরদি দাঈ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫৭ এএম

শায়খ নুমান রিডার একাধারে আলেম, দাঈ, সুচিন্তক, গবেষক, লেখক, মোটিভেশনাল স্পিকার ও সফল উদ্যোক্তা। মানবতার কল্যাণে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। তিনি ইসলাম নিয়ে কাজ করছেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে। দ্বীনের দরদি দাঈ হিসেবে সফর করেছেন একাধিক দেশ।

তিনি পড়াশোনো সম্পন্ন করেন চট্টগ্রামের জামেয়া দারুল মাআরেফ আল ইসলামিয়া থেকে। প্রতিষ্ঠা করেন ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রিডফোর্ড মাদ্রাসা। এটি কেবল মাদ্রাসা নয়, বরং বিশ্ব দর্শনের প্রতীক, যেখানে ইসলামি শিক্ষা, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা এবং সমসাময়িক জ্ঞানচর্চার সমন্বয় ঘটেছে। তিনি মনে করেন, শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, বরং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

তিনি বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে শান্তি ও কল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে। তার সফর করা দেশের তালিকায় রয়েছে দুবাই, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, থাইল্যান্ড, মিসর, সৌদি আরব, ব্রুনাই, কাতার, কুয়েত, উজবেকিস্তান, কম্বোডিয়া, লাওস, ভারত ও চেচনিয়া।

এই দেশগুলোতে সফর করে করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ফোরামে অংশ নিয়ে বিশ্ব মুসলিম সমাজের সামনে ইসলামের শান্তিপূর্ণ বাণী তোলে ধরেছেন।

তিনি যেমন মেধাবী, উদ্যমী, বিচক্ষণ ও গভীর চিন্তাশীল তেমনি তার অনন্য প্রতিভার একটি অংশ হলো সাহিত্য চর্চা করা। তার বাংলা, আরবি, ইংরেজি ও উর্দু ভাষার দখল অসাধারণ। তিনি কেবল ভাষাতেই পারদর্শী নন, তার আলোচনায় যেমন থাকে যুক্তির দীপ্তি, তেমনি থাকে ভাষার শিল্পসুষমা। তার প্রাঞ্জল, সাহিত্যমণ্ডিত বক্তৃতা, হৃদয়গ্রাহী বাগ্মিতা এবং যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি শ্রোতাদের বিমোহিত করে। তিনি ইসলামি আলোচনার পাশাপাশি আধুনিক সমাজ, অর্থনীতি, নেতৃত্ব, মানবিকতা ও শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন।

লেখালেখির মাধ্যমে তিনি জ্ঞান ও চিন্তাধারাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিতে সচেষ্ট। তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘ওয়ান টু মোর ওয়ান’। এই বই পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিনি পুস্তকটিতে এমন কিছু চিন্তাতত্ত্ব হাজির করেছেন, যা পাঠক শ্রেণির দীর্ঘদিনের দুনিয়াবিমুখ দর্শনে প্রভাবিত হয়ে থাকার একপেশে মত ও পথকে বদলে দেবে। এতে তিনি তুলে ধরেছেন জীবনের বিভিন্ন বাস্তবতা, প্রেরণা, চিন্তা-চেতনা এবং সমাজ গঠনের দর্শন। ইসলামি অর্থনীতি, সামাজিক সংস্কার, শিক্ষার আধুনিকায়ন ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে তার গবেষণা নতুন প্রজন্মকে ভাবনার নব দিক উন্মোচন করেছে।

তিনি একজন ব্যবসায়ীও। ব্যবসার ক্ষেত্রেও তার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। তিনি মনে করেন, ব্যবসা শুধু মুনাফার জন্য নয়, বরং নীতি-নৈতিকতা ও মানবতার কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যম।

তার নেতৃত্ব ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলিম রিডফোর্ডের আঙিনায় সমবেত হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি যেমন একজন শিক্ষক, অনুসারীদের কাছে তেমনি একজন দিকনির্দেশক, আর সমাজের কাছে এক অনন্য প্রেরণার নাম। ইসলাম, শিক্ষা, মানবতা ও নেতৃত্বকে একসঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি বিশ্ব সমাজের সামনে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্যও এক অনন্য প্রেরণা হয়ে থাকবে।

বিভক্তি ও সহিংসতার এ সময়ে শায়খ নুমান রিডার শান্তির বার্তা, জ্ঞানের আলো ও নৈতিকতার দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি মুসলিম উম্মাহকে মুসলিম পরিচয় ধারণ করে এক হওয়ার আহ্বান করেন। তার দর্শন ও নেতৃত্ব দিকহারা মুসলিম উম্মতের জন্য বিশেষ পাথেয়।

এ ছাড়াও মানবতার কল্যাণে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রিডফোর্ড ফাউন্ডেশন নামে একটি সমাজ কল্যাণ তহবিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত