চার মাস বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে চাল আমদানি। এতে সরবরাহ বাড়ায় সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। এতে করে খুশি বন্দরে চাল কিনতে আসা পাইকাররা। ভারতে দাম কমায় সামনে আরও দাম কমবে বলে আশা করছেন আমদানিকারকরা।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থলবন্দর দিয়ে আগে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক করে চাল আমদানি হলেও এখন তা বেড়ে ১শ থেকে ১৩০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। আমদানি বাড়ায় বন্দরে সব ধরনের চালের দাম কমতে শুরু করেছে। বন্দরে আগে চিকন জাতের চাল ৭১টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো এখন তা থেকে কমে ৬৬ থেকে ৬৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মোটা জাতের চাল আগে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হতো। বর্তমানে তা থেকে কমে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি স্থলবন্দরে চাল কিনতে আসা পাইকার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চালের আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। আগের চেয়ে কেজিপ্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা করে কম দামে চাল কিনতে পারছি আমরা। চালের দাম কমে আসায় আমাদের কিনতে সুবিধা হচ্ছে, তেমনি মোকামে মানুষ কম দামে খেতে পারছে। সম্ভবত ব্যবসায়ীরা কেউ সিন্ডিকেট করতে পারছে না বা হবেও না। সরকার এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে তাহলে মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি ফিরে আসবে।
চাল কিনতে আসা অপর পাইকার নূর ইসলাম বলেন, যে চিকন চাল কয়েক দিন আগেও বন্দর থেকে কিনেছিলাম ৭১ টাকা কেজি দরে, সেই চাল এখন কিনছি ৬৬ টাকা কেজি দরে। এতে করে চালের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে কমে গেছে। তবে কিছু চাল ভালো কোয়ালিটির সেগুলোর দাম এক দুই টাকা বাড়তি রয়েছে। বন্দর দিয়ে যেমন প্রচুর পরিমাণে চাল আমদানি হচ্ছে তেমনি সরবরাহ বাড়ায় চালের দাম কমে আসছে। এর ফলে আমরা চাহিদামতো প্রতিদিন বন্দর থেকে ৮ থেকে ১০ ট্রাক করে চাল ক্রয় করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছি। চালের বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই এমন অবস্থা থাকলে সামনে দাম আরও কমবে বলে আশা করছি আমরা।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ধানের দাম বাড়তির অজুহাতে দেশে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করে চালের দাম। চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ। এমন অবস্থায় দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। ফলে চার মাস বন্ধের পর গত ১২ আগস্ট থেকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। তবে চাল আমদানি শুরু হলেও আমদানি শুল্ক ৬৩.৫ ভাগ থাকায় চাল আমদানির পরিমাণ বাড়ছিল না তেমনি লোকসানের আশঙ্কায় বন্দর থেকে চাল খালাস করছিলেন না আমদানিকারকরা। তবে ১৯ আগস্ট চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে ২ ভাগ করা হলে বন্দরে আটকে থাকা চাল খালাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে চাল আমদানির পরিমাণ বাড়িয়ে দেন আমদানিকারকরা। প্রত্যেক বরাদ্দপ্রাপ্ত আমদানিকারক এলসি খুলে চাল আমদানি করছেন এতে চাল আমদানির পরিমাণ বেড়ে গেছে। মূলত শুল্ক কমানোর ফলে বন্দর দিয়ে চাল আমদানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসায় বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চালের দাম চলে এসেছে। এ ছাড়া ভারতে চালের দাম একটু কমেছে আগে যে চিকন জাতের চাল ৫৩০ ডলার দাম ছিল সেই চাল এখন দাম কমে ৫শ থেকে ৫শ ১০ ডলারে দিতে চাইছে। টন প্রতি ২০ থেকে ৩০ ডলার কমে এসেছে এতে করে সামনের দিনে দেশের বাজারে চালের দাম আরও একটু কমতে পারে।
হিলি স্থলবন্দরের চাল আমদানিকারক ওবায়দুর রহমান বলেন, বন্দর দিয়ে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাল আমদানি হচ্ছে। এ ছাড়া ভারত থেকে চাল আমদানির ফলে দেশে চালের দাম অনেকটা স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। আমদানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চালের দাম আগের তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে। যে চিকন জাতের চাল আমদানি শুরুর দিকে ৭০ থেকে ৭১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল, সেই চাল এখন দাম কমে ৬৬ টাকায় চলে এসেছে কেজিতে ৫ টাকা করে দাম কমেছে। এ ছাড়া মোটা জাতের চাল ৫২ থেকে ৫৩ টাকা ছিল সেটি এখন কমে ৫০ টাকায় নেমে এসেছে। প্রথম দিকে চালের দাম ভালো পাওয়ায় বরাদ্দপ্রাপ্ত সব আমদানিকারক এলসি খুলে ভারত থেকে চাল আমদানি করছেন। চালের আমদানি দিন দিন বাড়ছে, ফলে আগামী দুচার দিনের মধ্যে চালের দাম আরও কমতে পারে।
হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, চলতি মাসের ১২ আগস্ট থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিকে বন্দর দিয়ে চাল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কম থাকলেও আমদানি আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে। আগে যেখানে বন্দর দিয়ে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক চাল আমদানি হতো এখন সেখানে ১শ থেকে ১৫০ ট্রাক চাল আমদানি হচ্ছে। এভাবে বন্দর দিয়ে ১২ আগস্ট থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রাকে ৩৬ হাজার ৮১৯ টন চাল আমদানি হয়েছে। আমদানিকৃত চাল বন্দরে প্রবেশের পর ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কাস্টমসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করলে যতদ্রুত সম্ভব আমদানিকৃত চাল দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র প্রদান করা হচ্ছে। যেহেতু কম শুল্কে চাল শুল্কায়ন করা হচ্ছে যাতে করে দেশের বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি না হয়, এ জন্য দ্রুত ছাড়করণ দিতে কাস্টমসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মœক সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমদানিকৃত চাল ৪৫০ থেকে ৫৩০ মার্কিন ডলার মূল্যে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ১৫ এপ্রিল চাল আমদানি হয়েছিল।
