সীমান্ত বিরোধের জেরে প্রায় সাত বছর ধরে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল প্রতিবেশী চীন ও ভারতের মধ্যে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ নীতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। আর সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটছে দিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধসহ নানা টানাপোড়েনের পর এখন তাদের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। তিয়ানজিন বন্দরে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতা সাক্ষাৎ করেন। সাত বছর পর মোদির এটাই প্রথম চীন সফর।
শি জিনপিং মোদিকে বলেন, চীন ও ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হতে হবে। মোদি বলেন, এখন দুই দেশের মধ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ বিরাজ করছে।
সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ বিশ্বের ২০টির বেশি দেশের নেতা। তবে এবারের সম্মেলন ছাপিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন, কারণ দিল্লি এখনো রাশিয়ার তেল কিনছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের জন্য পুতিন নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে।
যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে পড়ায় মোদি শির কাছাকাছি আসছেন। দুই দেশই শুধু জনসংখ্যায় নয়, অর্থনীতিতেও বিশ্বের বৃহত্তম শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
মোদি ঘোষণা করেছেন, ভারত ও চীনের মধ্যে ফ্লাইট আবার চালু হবে। সীমান্তে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর এগুলো স্থগিত ছিল। তবে তিনি কোনো সময়সীমা জানাননি। শি বলেন, উভয় দেশকে সম্পর্ককে কৌশলগত উচ্চতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে ও পরিচালনা করতে হবে। বন্ধু হওয়াই দুই দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত।
এসসিও সম্মেলনটি প্রতীকী হলেও নেতাদের অভিন্ন স্বার্থ ও অভিযোগ প্রকাশের সুযোগ করে দেয়। এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেইজিংয়ে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজের ঠিক কয়েক দিন আগে। জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করা হবে।
এই জোটের মোট ১০টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে—এর মধ্যে রাশিয়া, পাকিস্তান ও ইরানও আছে। এছাড়া ১৬টি ডায়ালগ পার্টনার ও অবজারভার রয়েছে। চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পুতিনকে রবিবার তিয়ানজিনে লাল গালিচায় স্বাগত জানানো হয়।
২০০১ সালে চীন, রাশিয়া এবং মধ্য এশিয়ার চারটি দেশ পশ্চিমা জোট ন্যাটোর প্রভাব সীমিত করার পাল্টা উদ্যোগ হিসেবে এসসিও গঠন করে। এবারের সম্মেলনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবচেয়ে বড়।
তিয়ানজিনে এটি এখন সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে। পুরো উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরে সম্মেলন উপলক্ষে ব্যানার ও বিলবোর্ড টানানো হয়েছে। রাতের বেলা নদীর ধারে হাজারো দর্শনার্থী ভীড় জমায় গগনচুম্বী ভবনে প্রদর্শিত আলোকসজ্জা দেখার জন্য।
রাস্তায় ভিড় এতটাই বেশি যে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষত ঐতিহাসিক জিয়েফাং ব্রিজের আশপাশে। দিনে কখনো কখনো পথচারীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে, কারণ বিদেশি নেতাদের গাড়ি বহরের জন্য রাস্তা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
ডাউনটাউন এলাকায় ট্যাক্সি ও ভাড়া গাড়ির সেবা স্থগিত করা হলেও সাধারণ মানুষ উৎসাহ হারাচ্ছে না। তারা মনে করছে, এটি একটি ঐতিহাসিক আয়োজনের অংশ হওয়ার সুযোগ। তবে পুলিশ তিয়ানজিনের ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি বাসিন্দাকে পরামর্শ দিয়েছে—যতটা সম্ভব বাইরে না যেতে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা নিকটস্থ দোকান থেকেই সেরে নিতে।
