হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরুর আগেই স্থগিত

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০২৫, ০৭:০৩ পিএম

প্রায় অর্ধশত কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হওয়ার পর হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দর কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার।

প্রশাসন ও স্থানীয়রা জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের কেদারাকোট নামক স্থানে ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ স্থলবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের জুন মাসে শেষ হয়। বন্দরের অবকাঠামোগত স্থাপনা নির্মাণ কাজে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর আগে ১৩ একর জমি অধিগ্রহণ খাতে ৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়। অপরদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ খোয়াই নদীর অপর তীরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়মুড়ায় সময়মত বন্দর স্থাপন না করায় বাল্লা স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।  

গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ৪০তম বৈঠকে বাল্লা স্থলবন্দরের অপারেশন কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

উল্লেখ্য ১৯৫১ সালে চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী বাল্লা এলাকায় ৪ দশমিক ৩৭ একর জায়গা নিয়ে একটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯৯১ সালে পুনরায় চালু করা হয়। এ পোস্ট দিয়ে কিছু পন্য আমদানী ও রপ্তানি করা হতো। এছাড়া বাংলাদেশ ও ভারতের পাসপোর্টধারী লোকজন এই চেকপোস্ট দিয়ে আসা যাওয়া করে থাকেন। দুই দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে থোয়াই নদী। আমদানি ও রপ্তানিকারকরা বর্ষায় নৌকায় ও শুকনো মওসুমে শ্রমিকরা মাথায় ও কাঁধে করে পণ্য আনা নেওয় করেন। দুর্ভোগ লাগবে ২০১২ সালের ১১ জুন দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল কেদারাকোট এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এরপর আরো কয়েক দফা পরিদর্শন করেন উভয় দেশের বিন্নি দফতরের কর্মকর্তাগন। কেদারাকোট এলাকায় নদী পারাপারে কোন ঝামেলা নেই বলে সেখানে স্থলবন্দর করার ব্যাপারে উভয় একমত হন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালের ২৩ মার্চ বাল্লাকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। নির্মাণকাজ শেষে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় বন্দরটি এখন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। 

চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সরকার বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করায় এটি অরক্ষিত হয়ে পড়বে। এখনই এর অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন ব্যবসায়ীরা এতদিন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন স্থলবন্দর নির্মাণ কাজ কবে শেষ হবে। কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু কার্যক্রম শুরুর পূর্বমুহুর্তে সরকার বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করায় আমরা হতাশ। কারণ বর্তমান খোয়াই নদী দিয়ে পণ্য আনা নেওয়া ঝুকি ও ব্যয় সাপেক্ষ।  

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় সদ্য যোগদান করেছি। বাল্লা স্থলবন্দর যাতে অরক্ষিত না থাকে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত