সরকারের নির্বাচন করা নিয়ে শঙ্কায় জামায়াত

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৬ এএম

আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আগামী জাতীয় নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে দ্বিমত বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব না থাকলেও এর কার্যকারিতার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছে দলটি। একইসঙ্গে সরকার কীভাবে এত বড় নির্বাচন পরিচালনা করবে। তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাময়াত। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠকে এমন দাবি ও ভিন্নমত পোষণ করেছে জামায়াত। বৈঠক শেষে যমুনার সামনে দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করার জন্য করণীয়, বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ৩ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সংস্কার, বিচার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন।

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, এখন যে সময় আছে, সরকার যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো সম্ভব। পরিস্থিতির যদি উন্নতি ঘটে, তাহলে একটা নির্বাচন হওয়া সম্ভব।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারা একমত পোষণ করেছেন, তবে কার্যকারিতার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন।

তিনি বলেন, দেশ একটি নীলনকশার নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার লন্ডনে একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছিল, যা একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এতে সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণœ হয়েছে এবং একটি দলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্রের দিনে (৫ আগস্ট) নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করাটা কোনো একটা চাপে পড়ে করা হয়েছে। এখানে একটা চাপ আছে। সরকারের উচিত ছিল জুলাই সনদের ব্যাপারে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচনের রোডম্যাপ এবং তারিখ ঘোষণা করা।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কে জামায়াত নেতা তাহের বলেন, ‘আনফরচুনেটলি অল্প কিছু দল সনদ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। প্রধানত একটি দলই বাধা দিচ্ছে। তারা বলছে, আগামী নির্বাচিত সরকার এসে এটা বাস্তবায়ন করবে। আমরা তাহলে এই সরকারের আমলে কেন আলোচনা করলাম?’

সেই দলটির নাম জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আপনাদের স্বউদ্যোগে সেটি জানতে হবে।’

বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলই পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় মন্তব্য করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘৩১টি দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআর চায়। বাম দলগুলো ও ইসলামি দলগুলোও পিআর চায়। অধিকাংশ দল যেহেতু পিআর চায়, সেটা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা শুধু ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছি। কিন্তু এর আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু দল বাধা দিচ্ছে। যদি সেটা না হয়, তাহলে শহীদ ও পঙ্গুদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। তাই আমরা বলেছি, সনদের ওপর ভিত্তি করেই নির্বাচন হতে হবে।’

নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে দ্বিমত নেই, দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই জানিয়ে তিনি বলেন, তবে নির্বাচনের কার্যকারিতার ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছি।

 সৈয়দ তাহের বলেন, ‘এই সরকার দখলদারদের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে সেটা কেউ দেখাতে পারবে না। আগে এক গ্রুপ বাসস্ট্যান্ড দখলে নিয়েছে। এখন আরেক গ্রুপ নিয়েছে। এই সরকার কীভাবে নির্বাচন করবে, তা নিয়ে শঙ্কিত, কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাহলে নির্বাচনের মতো গুরুদায়িত্ব কীভাবে বাস্তবায়ন করবে? মনে হচ্ছে কোথাও থেকে নীলনকশা হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে। কিন্তু এটা হতে দেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, ‘সরকার মনে হয় যেন হাত-পা ছেড়ে দিয়েছে। আমরা বলেছি, আপনারা এতদিন যা ছিলেন এখন আরও কঠোর হতে হবে।’

বৈঠকে ফ্যাসিবাদের দালালদের প্রশাসন থেকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, নুরুল হকের (গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি) ওপর হামলার ষড়যন্ত্র অনেক গভীরে। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগের (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে বলেছি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিল জাতীয় পার্টি। যেভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।’

বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। অন্যরা হলেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত