জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতি, আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ পিএম

জন্ম নিবন্ধনে বয়স জালিয়াতি করে জামিন নেওয়ার অভিযোগে এক গাইবান্ধার আইনজীবীকে আসামি করে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার রাতেই সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়। 

গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২-এর বেঞ্চ সহকারি গাজী আলী আহসান বাদী হয়ে প্রতারণাসহ কয়েকটি ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত আইনজীবির নাম শেফাউল ইসলাম। তার বাড়ি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর এলাকায়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবি শেফাউল ইসলাম ৩ আগস্ট গাইবান্ধা শিশু আদালত-২-এ পলাশ রানা নামের এক আসামির জামিনের জন্য আবেদন করেন। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী পলাশ রানার বয়স ২৫ বছর ২ মাস ২ দিন। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন জাল করে তাকে শিশু হিসাবে (১৭ বছর ৬ মাস ১৮ দিন) আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালত আসামি পলাশ রানাকে শিশু বিবেচনায় জামিন প্রদান করেন।

পরবর্তীতে আইনজীবির প্রতারণা ও জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর শিশু আদালত পলাশ রানার জামিন বাতিল করেন। এছাড়া আইনজীবিকে প্রতারণার বিষয়ে ব্যাখ্যা তলব করা হয়। পরে শেফাউল ইসলাম লিখিতভাবে প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শিশু আদালত পলাশ রানার জন্ম নিবন্ধন ও আদালতে দাখিলকৃত জাতীয় পরিচয়পত্র তদন্ত করেন। এতে জন্ম নিবন্ধন জাল প্রমাণিত হয় এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সঠিক হিসেবে শনাক্ত করা হয়। শেফাউল ইসলাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং শিশু আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করে জাল কাগজপত্র দাখিল করেছেন।

এজাহারে বলা হয়, গাইবান্ধা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২-এর বিচারক শেফাউল ইসলামের ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি বিবেচনা করেননি। বিচারক শেফাউল ইসলামকে আসামি করে বেঞ্চ সহকারি গাজী আলী আহসানকে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহীনুর ইসলাম তালুকদার। তিনি মুঠোফোনে বলেন, “বুধবার রাতে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। থানার উপপরিদর্শক সুদিপ্ত শাহীনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

অভিযুক্ত আইনজীবি শেফাউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অন্যজন ফোনে জানান, “ভাই বাইরে গেছেন।”

গ্রেপ্তারকৃত চারজনের মধ্যে তিনজন জেলা কারাগারে আছেন। অপরজন আলোচিত পলাশ রানা ৩ আগস্ট দেওয়া জামিন বাতিলের পর সাতদিনের মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ পান। বর্তমানে পলাশ রানা পলাতক রয়েছেন।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় তদন্ত চলছে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ও সিমগুলো কী কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল, তা যাচাইয়ের জন্য সিআইডি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত