মানবতাবিরোধী মামলায় অভিযুক্ত হলে নির্বাচনে না

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। জনপ্রতিনিধি অথবা সরকারি কোনো পদ বা দায়িত্বে থাকতেও পারবেন না।

গতকাল বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠকপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ ছাড়া বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন এবং টেলিকম নেটওয়ার্ক নীতিমালারও অনুমোদন দেওয়া হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩ এ এমন বিধানসংবলিত ধারা যুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অধ্যাদেশটি জারি করা হলে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না।

আরও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে :  শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। এ ছাড়া পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশিদ ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এদের অনেকেরই বিচারকাজ শুরু হয়েছে।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, দলের শীর্ষ নেতাসহ সরকারি অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত চলছে।

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের তথ্য তুলে ধরেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, ‘অধ্যাদেশের মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর নতুন সেকশন যুক্ত করা হয়েছে। সংযোজিত ধারায় কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৯১ ধারা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হলে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা বহল থাকার অযোগ্য হবেন। একইভাবে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র বা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হওয়া বা বহাল থাকার অযোগ্য হবেন। এমনকি প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে নিয়োগ পাওয়া বা অন্য কোনো পাবলিক অফিসে অধিষ্ঠিত হওয়ারও অযোগ্য হবেন।’

সংস্কার কমিশনের ৫০টি সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়িত : উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনার বিষয় তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, ‘সংস্কার কমিশনের সুপারিশ করা ৫০টি কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়েছে, ৩৭টি আংশিক বাস্তবায়ন এবং ২৮০টির মতো প্রক্রিয়াধীন আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর বাইরে আমাদের মন্ত্রণালয়গুলোতে উপদেষ্টারা যখন দায়িত্ব নেন, তারা তাদের মতো করে অনেক সংস্কার কাজ করেছেন। তাদের কাজের তালিকা অনেক দীর্ঘ। অনেকেই দেখছি, সংস্কার কমিশনের দিকে শুধু তাকিয়ে বলেছেন, কি কাজ হয়েছে, এর বাইরেও প্রচুর কাজ হয়েছে। আমি বলব, সংস্কার কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে তার কয়েকগুণ বেশি কাজ মন্ত্রণালয়গুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে করেছে। সামনের দিনগুলোতে আমরা এগুলো প্রকাশ করব।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালার অনুমোদন : সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বেসরকারি অংশগ্রহণে ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা ২০২৫’ অনুমোদন হয়েছে। এতে করে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির সম্প্রসারণের পাশাপাশি এ খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি বিশেষ করে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর থেকে নির্ভরতা কমবে।

এটিকে যুগান্তকারী নীতি আখ্যায়িত করে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের বিদ্যুৎ নীতিমালা ছিল, সেটাকে বিগত সরকার শুধু লুটপাটের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১০ সালে বিদ্যুৎ খাতে যে বিশেষ ক্ষমতা আইন তৈরি করেছিল, তার কারণে গত বছর ৬৭ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে বিদ্যুৎ খাতে। বিপুল পরিমাণ এই লুটপাটের অর্থ আওয়ামী লীগের নেতাদের পকেটে গেছে। দিন শেষে জনগণের আর্থিক ক্ষতি ও ভোগান্তি বেড়েছে।

তিনি বলেন, সেই জায়গা থেকে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে এবং মানুষের জন্য বিদ্যুৎ খাতে খরচ কমাতে এই নীতিমালা করা হয়েছে। এই নীতিমালার ফলে এখন যারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবেন যেমন পিডিবি আগে পুরোটাই কিনে ফেলত বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে। এখন ২০ শতাংশ কিনতে পারবে। বাকিটা পছন্দের ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিক। এই বিদ্যুৎ বিক্রির জন্য সরকারের যে সঞ্চালন লাইন আছে এগুলো ব্যবহার করতে পারবে, তার জন্য তাদের একটি চার্জ দিতে হবে। এই চার্জ নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

শফিকুল আলম বলেন, নতুন এই নীতিমালার কারণে আশা করছি, সৌরবিদ্যুতে বেশ বড় আকারে বিনিয়োগ হবে। এমন একটা ঘটনা পাকিস্তানে ঘটেছে, সেখানে সৌরবিদ্যুতে এত বিনিয়োগ হয়েছে যে সরকারি লাইন থেকে বিদ্যুৎ কিনছে না বরং বেসরকারি পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে কিংবা নিজেরাই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে খরচ, এই পলিসির কারণে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে।

‘পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে দেশীয় গ্যাসের ওপর চাপ কমবে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আমদানি করা চড়া দামের এলএনজির ওপর নির্ভরতাও কমে আসবে অনেকখানি’, যোগ করেন তিনি।

চার লাইসেন্স দিয়েই দেওয়া যাবে টেলিকম সেবা, নীতিমালা অনুমোদন : উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রণীত ‘টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং নীতি, ২০২৫’ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এ নীতিমালায় টেলিযোগাযোগ খাতে লাইসেন্স কমানোসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনার কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

টেলিযোগাযোগ খাতের অংশীজনদের নানা দাবি-দাওয়ার মধ্যে আলোচিত টেলিকম নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে; যাতে এ খাতে ‘একক নিয়ন্ত্রণ ও মধ্যস্বত্ব¡ভোগীদের দৌরাত্ম্য’ কমে সুলভে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে সরকার।

যদিও বিএনপি এবং খাতসংশ্লিষ্টদের অনেকেই নতুন এই নীতিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে আপত্তি তুলে বলেছে, এতে টেলিকম খাতের মৌলিক তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না। বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হবে। ক্ষুণœ হবে গ্রাহকস্বার্থ। এ ছাড়া দেশীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করে বিদেশিদের আরও বেশি স্বার্থ দেখানো হয়েছে এখানে।

ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই নীতিমালাকে গ্রাহক ও ব্যবসাবান্ধব বলে আখ্যায়িত করে নীতিমালার সারসংক্ষেপ ব্যাখ্যা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ।

তিনি বলেন, এই নীতিমালার মাধ্যমে লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে স্তর কমিয়ে আমরা মধ্যস্বত্বভোগী কমিয়ে দেব এবং প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত করব। এতে সরকারের রাজস্ব না কমিয়েও গ্রাহকদের সুলভ মূল্যে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে মানসম্মত সেবার নিশ্চয়তা এবং মনোপলি ব্যবসার অবসান ঘটিয়ে প্রতিযোগিতামূলক টেলিযোগাযোগ ব্যবসা সম্প্রসারণ করে ভয়েস কল এবং ডেটা, অর্থাৎ ইন্টারনেট ও ডেটাকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ভেতরে নিয়ে আসার একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সূচিত হয়েছে, বলেন তিনি।

লাইসেন্স কমানোর ব্যাখ্যায় ফয়েজ আহমদ বলেন, ‘বিটিআরসি ২৬ ধরনের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। ২৯ হাজার ৯৯টি প্রতিষ্ঠান এসব লাইসেন্স সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ এর মাধ্যমে সেবা জনগণের কাছে পৌঁছাতে অতিমাত্রায় স্তরায়ন (মধ্যসত্ত্ব) সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে এই খাতে অতিমাত্রায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।’

এই ক্ষেত্রে লাইসেন্সিং পদ্ধতির স্তরায়ন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের স্তরগুলো বাদ দিয়ে মাত্র তিনটি স্তরে নিয়ে আসা হয়েছে। এর পাশাপাশি স্যাটেলাইট-নির্ভর টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য আরেকটি লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে তিন যোগ এক- চারটি লাইসেন্সের মাধ্যমে দেওয়া যাবে এই খাতের সেবা, বলেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ‘টেলিকম সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের মধ্যে যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে তার দূর হবে। অপারেটরদের সব জায়গায় ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য সেবার নিশ্চয়তা দিতে হবে এই নীতিমালার আলোকে।’

সরকারের ভাষ্যমতে নতুন নীতিমালায় প্রথমবারের মতো পরিবেশ সহনশীল টেলিকম অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যন্ত, উপকূলীয় ও পার্বত্য অঞ্চলে ন্যায্য টেলিকম সেবা পৌঁছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

আপত্তি দেশীয় উদ্যোক্তাদের : নতুন নীতিমালা প্রসঙ্গে আইওএফ (ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে অপারেটরস ফোরাম) এর প্রসিডেন্ট আসিফ সিরাজ রব্বানী বলেন, ‘নতুন নীতিমালার নামে এখনো এই খাতে সামান্য যেটুকু ব্যবসা দেশীয় বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে, সেটাও বিদেশিদের কাছে তুলে দেওয়ার আলামত আমরা লক্ষ্য করছি। এই খাতে এমনিতেই বিদেশি এমএনও ( মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর) গুলোর একচেটিয়া দাপট রয়েছে। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে কার্যত তাদের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। যেসব খাতে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সক্ষমতা রয়েছে সে সব ব্যবসা বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘শুধু আইজিডব্লিউ খাতেই আমাদের পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। অনেক দক্ষ প্রযুক্তিবিদ আমাদের সঙ্গে কাজ করছে। এ পর্যন্ত আমরা বিটিআরসিকে সাড়ে দশ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছি। অথচ নতুন নীতিমালা কিংবা বিধিবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে খুব একটা সমন্বয় করা হয় না। এটা খুবই অগ্রহণযোগ্য ও দুঃখজনক।’

এর আগে, গত ২০ জুলাই টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং নীতি, ২০২৫-এর খসড়া পর্যালোচনায় চার সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত