হাতে বাজারের ফর্দ থাকলেও চোখে-মুখে হতাশার ছাপ রয়েছে বেসরকারি চাকরিজীবী বিধানের। আজ শুক্রবার সকাল বেলায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পৌঁছালে তিনি প্রথমেই দেখেন, সবজির দাম আকাশছোঁয়া। বেগুন, টমেটো, করলা, বরবটি—প্রতিটি পণ্যের দাম শুনে বাজার করতে এসে হতাশ হয়ে পড়েন বিধান। এ অবস্থায় বাজারের সবজিতেই তার বেতনের বড় অংশ শেষ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।
রাজধানীর নয়বাজার ও কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু কিছু সবজির কেজি দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়েছে। বর্তমান বাজারে বেগুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, ধুন্দল ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, কচুর মুখী ৬০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, শসা ৬০-৮০ টাকা ও পেঁপে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি ১০০-১২০, কহি ৬০, গাজর ৭০-৯০, ঝিঙে ৫০-৬০, পেঁয়াজ ৭৫-৮০, শিম ১৬০, মুলা ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, আলু ২৫, ধনেপাতা ৮০, কাঁচা আমড়া ৫০ এবং উচ্ছে ৯০-১০০ টাকায় বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
চালকুমড়া ও লম্বা লাউয়ের দামও যথাক্রমে ৫০-৬০ ও ৬০-৮০ টাকা। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে, তাই দাম বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহবুদ্দিন বলেন, ‘কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও কমেছে, ফলে আমরা লোকসানে রয়েছি।’
ক্রেতারা বলছেন, বেড়ে যাওয়া মূল্যের কারণে অন্যান্য নিত্যপণ্যও কম কিনতে হচ্ছে। গৃহিণী আফসানা বলেন, ‘দৈনন্দিন খাবারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে গেছে। বাজারে স্বস্তি চাই।’
বিধানও বলেন, ‘বাজারে আসলে মনে হয় সবজিতেই বেতনের সব টাকা শেষ হবে। দাম খুব বেশি, মধ্যম আয়ের মানুষের কষ্ট বেড়েছে। আমরা স্বস্তি চাই।’
কিছু শাকের দাম কমেছে; প্রতি মুঠো লাউ শাক ৪০-৫০, পুঁইশাক ৩০, ডাঁটাশাক ২০, কলমি শাক ১০-১৫, লালশাক ১০-১৫ এবং পাটশাক ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম ১০ টাকা বেড়ে এখন ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ২৯০-৩২০, লাল লেয়ার ৩২০, সাদা কক ৩০০ এবং দেশি মুরগি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গরু ও খাসির মাংসের দাম অপরিবর্তিত। প্রতি কেজি গরু ৭৬০-৮০০, খাসি ১,২০০ এবং ছাগল ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারও স্থিতিশীল; লাল ডিম ১৪০, সাদা ডিম ১৩০, হাঁসের ডিম ২৪০ এবং দেশি মুরগির ডিম ২৩৫ টাকায়।
মাছের বাজারে রুপালি ইলিশের দাম কমেছে; প্রতি কেজি ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার, ৮০০-৯০০ গ্রাম ১ হাজার ৯০০ এবং ৬০০-৭০০ গ্রাম ১ হাজার ৬৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য মাছের দাম আগের মতোই চড়া; বোয়াল ৭৫০-৯০০, কোরাল ৮০০-৮৫০, আইড় ৭০০-৮০০, চাষের রুই ৩৮০-৪৫০, কাতল ৪৫০, তেলাপিয়া ১৮০-২২০, পাঙাশ ১৮০-২৩৫, পাবদা ও শিং ৪০০-৫০০, ট্যাংরা ৭৫০-৮০০, কাঁচকি ৬৫০-৭০০ এবং মলা ৫০০-৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের দামেও কোনো বড় পরিবর্তন নেই। কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ী রাকিব জানিয়েছেন, ‘নতুন করে দাম বাড়েনি, তবে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই। মিনিকেট চাল ৮৫, নাজিরশাইল ৮৫-৯২ এবং মোটা চাল ৫৬-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
