জমি বিক্রির নামে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ, সর্বস্বান্ত গৃহবধূ

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২৬ পিএম

পিতা, মা ও সন্তানের যৌথ প্রতারণার শিকার হয়েছে ফুলমতি নামে এক গৃহবধূ। জমি বিক্রির নামে তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ক্ষতিপূরণসহ টাকা ফেরতের দাবিতে আজ শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফুলমতির স্বামী সাবেক সেনা সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, আসাদুজ্জামান ও আব্দুল আলীম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ঝিনাইদহ পৌরসভার মহিষাকুন্ডু মৌজার ২৩৮ নং দাগে বাড়িসহ চার শতক জমি বিক্রির কথা জানান জমির মালিক সাগর ও তার পিতা মোলাম মন্ডল এবং মা আয়শা খাতুন। সাগর ও তার পরিবারের সাথে দামদর করে ৪০ লাখ টাকায় বাড়িসহ জমিটি বিক্রি করবে বলে জনালে তিনি ১৫ লাখ টাকার বায়না করেন। এই জমি কিনতে তিনি দুটি গরুসহ সংসারের বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করেন।

গত ১৩ জুলাই সাগরের কথামতো তিন শ টাকার স্টাম্পের মাধ্যমে তাকে নগত ১৫ লাখ টাকা বায়না করা হয়। বায়নার সময় মহিষাকুন্ডু গ্রামের মকলেস আলী, কোরাপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন, গয়াসপুর গ্রামের বয়জদ্দীন আহম্মেদ ও শিংগা গ্রামের মনোয়ার হোসেন সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বায়নার পর চুক্তি অনুযায়ী বাকি টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য সাগরকে ফোন করা হলে তিনি ২০ জুলাই জমি রেজিস্ট্রি করে দেবেন বলে জানান। ফুলমতি জানান, জমি রেজিস্ট্রির দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় তিনি নিজের গহনা বিক্রি ও চাষের সব জমি বন্ধক রেখে টাকা জোগাড় করে সেই তারিখে রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হন। সারাদিন রেজিস্ট্রি অফিসে বসে থাকার পর সাগর না আসায় তাকে ফোন করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, কিছুদিন পর প্রতিবেশীর মাধ্যমে ফুলমতি জানতে পারেন প্রতারক সাগর মালয়েশিয়া চলে গেছেন। যাওয়ার সময় গোপনে জমিটি তার মা আয়েশা খাতুনের নামে দলিল করে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে ফুলমতি উল্লেখ করেন, তিনি অতি সাধারণ পরিবারের সদস্য হিসেবে কষ্টে ১৫ লাখ টাকা জোগাড় করে জমি বায়না করেছেন। এখন তিনি জানতে পারেন সাগরের গোটা পরিবার প্রতারক। তারা জমি বিক্রির কথা বলে এভাবেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেন।

হুমকি ও প্রাণনাশের অভিযোগ তুলে তিনি আরো বলেন, জমির বায়নার টাকা ফেরত চাইতে গেলে সাগরের পরিবার উল্টো হুমকি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানিমূলক মামলা করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায়, র‌্যাব ক্যাম্পে ও সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে ফুলমতি খাতুন প্রশাসনের প্রতি তার বায়নাকৃত ১৫ লাখ টাকা (ক্ষতিপূরণসহ) ফেরত দেওয়া এবং প্রতারক সাগর, তার পিতা মোলাম মণ্ডল ও মা আয়শা খাতুনকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত