পাকিস্তানে বন্যায় চার হাজারের বেশি গ্রাম প্লাবিত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০৪ এএম

পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে রাভি, সুলতাজ ও চেনাব নদীর পানি। এতে প্লাবিত হয়েছে ৪ হাজারের বেশি গ্রাম। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ২৫টি জেলাজুড়ে চলমান বন্যায় মোট ৪১০০ গ্রামের ৪১ লাখেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বন্যায় ২৬ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন জানিয়েছে লাহোরে এক সংবাদ সম্মেলনে পিডিএমএর মহাপরিচালক ইরফান আলি কাথিয়া জানান, ওই গ্রামগুলোর ৪১ লাখ ৫১ হাজার ১১৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আর তাদের জন্য ৪২৫টি ত্রাণশিবির স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের জন্য প্রায় ৫০০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে, সেখানে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

কাথিয়া জানান, পাঞ্জাবের প্রধান তিনটি নদীর সবগুলোতেই পানির উচ্চতা ‘হ্রাস’ পাওয়ার ধারা শুরু হয়েছে। পানি দ্রুত হ্রাস না পেলেও বৃদ্ধির কোনো লক্ষণ নেই বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। চেনাব নদীর পানি বেড়ে মুলতান ও মাজাফ্ফরগড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। শনিবার মুলতান জেলায় জরুরি উদ্ধারকাজের সময় নৌকা ডুবে প্রাণ গেছে ৫ জনের। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুলতান জেলা থেকে দুর্গতদের উদ্ধার করে ফিরছিল নৌকাটি। পথে বানের স্রোতে উল্টে যায় সেটি। উদ্ধারকর্মীরাসহ যাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সবাই পানিতে পড়ে যায়। এ নিয়ে ২৬ জুন থেকে পাকিস্তানে বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯শ’র কাছাকাছি। পাকিস্তানের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী ভারত পাকিস্তানকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে শতদ্রু নদীর নিম্নপ্রবাহে হারিকে এবং ফিরোজপুর এলাকায় ‘উচ্চমাত্রার’ বন্যা দেখা দিতে পারে। এই খবর পাওয়ার পর পাঞ্জাবের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্র্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে শতদ্রু নদীর পানি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে। রাজধানী ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাবের অধিকাংশ জেলায় ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। এতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত