বায়ুবাহী যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সুরক্ষা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:১৯ এএম

পেঁয়াজ উৎপাদনে জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব প্রশমনে এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের কৌশল শেখাতে কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার খামারবাড়ি মিলনায়তনে উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস ও প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মাহফুজুর রহমান। প্রকল্প পরিচালক জানান, দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি দূরীকরণে এই সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় ১৬টি জেলায় প্রায় ৩ হাজার ৭শ পেঁয়াজ চাষির প্রতিজন পাবেন ২৭ হাজার টাকা করে সরকারি ভুর্তকি। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রতি বছর পচে বা নষ্ট হয়ে যাওয়া পেঁয়াজের দুই-তৃতীয়াংশ সুরক্ষা পাবে। তাতে প্রায় ৪ লাখ মে. টন পেঁয়াজ রক্ষা পাবে। পেঁয়াজের বাজার দর স্থিতিশীল থাকবে।

কুমারখালী উপজেলার চরভবানীপুর থেকে কর্মশালায় অংশ নেওয়া আয়াজ আলী ম-ল বলেন, ‘উরিস সর্বনাশ! প্রতি বছর আমার প্রায় ৪শ মণ পেঁয়াজের মধ্যে একশ মণই পইচি যায়। আইজকি একেনে যা দেকতিচি, তাতে সামান্য কিছু টেকা হলিই তো এই বাতাস যন্ত্র দিয়ে আমাদের পেঁয়াজ পচার হাতে থেকে রক্ষা করা যাবে। সারা বছর এই পচা বন্ধ করতে চাষির উপকার হয়। বাজারেও দাম কম থাকে।’

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কৃষক জলিল মালিথা বলেন, ‘এ রকম যন্ত্র হলি তো আর আমারে পেঁয়াজ মাঠে থিন বেচা লাগবি না। তালি সারা বছর ধইরি প্রয়োজনে আস্তে আস্তে বেঁচতি পারলি আমারে বেশ লাভজনক হবি। শুনতিচি সরকার তিন আসল যারা পেঁয়াজ চাষি তারে এই ম্যাশিনডা দিবি। সে জন্যি আমারে অরজিনাল পেঁয়াজ চাষিদের নামও লেকেছে কৃষি অফিস থেকে।’

এ সময় সেখানে পেঁয়াজ ঘরে বায়ুপ্রবাহ যন্ত্র প্রস্তুতকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য প্রদর্শনসহ এর নানা সুবিধা তুলে ধরেন। কুষ্টিয়ার জিএসএম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকার সাইফুল আলম বলেন, ‘সঠিক মাপ ও গুণগতমান সম্পন্ন একটি যন্ত্র নির্ধারিত কক্ষে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে চালু রাখলে মাস শেষে তার বিদ্যুৎ বিল হবে প্রায় ৭শ টাকা। তবে এটি চালানোর ক্ষেত্রে চাষিকেও সচেতন হবে। কারণ পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাবে তাপমাত্রা ভিত্তিতে যখন যতটুকু চালানো দরকার সেটি লক্ষ্য রাখতে হবে।

এ সময় আয়োজনের প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে পেঁয়াজ বাজারে হুটহাট করে অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছিল। কখনো কোনোরূপ কারণ ছাড়াই বাজার দর আকাশছোঁয়া হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ভোক্তাদের সঙ্গে কৃষি বিভাগেরও একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে যায়। নিবির পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বার্ষিক উৎপাদিত পেঁয়াজের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ পচে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগে অসাধু চক্র বাজার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কারসাজি করে। খুব অল্প খরচে কৃষক ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে পেঁয়াজ সুরক্ষার এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া সুযোগ দেশের ১৬টি জেলার শুধু প্রকৃত পেঁয়াজ চাষিরাই পাবেন।

প্রকল্প পরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান জানান, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা তহবিলের আর্থিক সহায়তায় আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনায় বায়ুরোধী চৌহদ্দির ১০ ফুট বাই ১০ ফুট বিশিষ্ট কক্ষে এই বায়ুবাহী যান্ত্রিক পদ্ধতিতে একজন চাষি প্রায় আড়াইশ মণ বা ১০ টন পেঁয়াজ বছরের ৮ মাস সময় ধরে সংরক্ষণ করতে পারবে। এতে একদিকে কৃষক প্রয়োজনীয় বাজার চাহিদায় পেঁয়াজ সরবরাহ করতে পারলে লাভবান হবে এবং ভোক্তাদেরও আর মূল্য সন্ত্রাসের মুখে পড়তে হবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত