রাঙ্গামাটির জুমে ইঁদুর-মুরগির উপদ্রবে ফসলহানি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:২১ এএম

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে জুমের ফসলে বনমোরগ-মুরগির পাল ও ইঁদুরের উপদ্রবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর ও বনমোরগ-মুরগির পাল জুমের পাকা ধান, মারফা, চিনারসহ বিভিন্ন ফল-ফসল নষ্ট করে চলেছে। স্থানীয়রা ইঁদুর ও মোরগ-মুরগির উপদ্রবকে ‘ইঁদুর ও মুরগির বন্যা’ নাম দিয়েছে।

এর আগে ২০১৭ ও ২০২২ সালে ‘ইঁদুর বন্যায়’ সহস্রাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও হেডম্যানরা। মুরগি ও ইঁদুরের উপদ্রবের কারণে স্থানীয়রা আবারও খাদ্যসংকটের আশঙ্কা করছেন।

বাঘাইছড়ি উপজেলার ১৬৯ নম্বর শিয়ালদাহলুই মৌজার হেডম্যান জুমপুইথাঙ ত্রিপুরা বলেন, ‘ইঁদুর বন্যায় সাজেক ইউনিয়নের ৯টি ত্রিপুরাপাড়া জুমের পাকা-আধাপাকা ধান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাজেকের সিয়ালদাইলুইপাড়ার ৭২টি, কাইচ্যাপাড়ার ৪০, জামপাড়ার ১৩, ৯ নম্বর ত্রিপুরাপাড়ার ২৮, ৯ নম্বর নতুনপাড়ার ১৯ ও জৌপুইপাড়ার ২৭, লংতিয়ানপাড়ার ৫৬, অরুণপাড়ার ৫৪ ও চৌমুইপাড়ার চারটি পরিবারের জুমের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম শিয়ালদাহ মৌজায় ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। এ জনগোষ্ঠী একমাত্র জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে জুমের ধান পাকা শুরু হয়। এরই মধ্যে রাতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর জুমক্ষেতে গিয়ে ফসল নষ্ট করে ফেলে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার বন বিহারী চাকমা বনমোরগ-মুরগির পাল ও ইঁদুরের উপদ্রবে ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করে জানান, আগস্ট মাসের শেষের দিকে জুমের ধান পাকা শুরু হলে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর জুমের পাকা ধান নষ্ট করে দেয়। এ ছাড়া কিছু কিছু জুমে এখনো ধান পাকেনি। সেসব জুমে ইঁদুরের পাল ধান গাছের গোড়া কেটে নষ্ট করে দিয়েছে।

সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, ‘সাজেকের দুর্গম এলাকায় জুমের ফসলে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। বহু পরিবার এ বছর পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছে না। দুই শতাধিক পরিবারের জুমের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জেনেছি।’

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য দেবপ্রসাদ দেওয়ান বলেন, ‘ইঁদুরের উপদ্রবে সাজেকের জুমচাষিদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। পাকা ধানের পাশাপাশি মারফা, চিনার, তিলসহ জুমের বিভিন্ন ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে ইঁদুর ও বনমোরগ-মুরগির পাল। সেখানে স্থানীয়দের প্রাচীন একটা বিশ^াস প্রচলিত আছে ওই বনমোরগ-মুরগি ও ইঁদুর নিধন করলে সেগুলো আরও দ্রুত বেড়ে যায় এবং ব্যাপক আকারে আরও ক্ষতি হবে। সেজন্য ভয়ে কেউ কিছু করে না।’

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার পর গত মঙ্গলবার বাঘাইছড়ি থেকে দুই কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছি। প্রায় দেড় দিন পর তারা সেখানে পৌঁছায়। সেখানে প্রায় ৩০০ হেক্টর এলাকায় জুমের চাষ হয়েছে। আপাতত এ পর্যন্ত ৫ শতাংশ জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সে হিসাবে এ পর্যন্ত ১৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭৫ ভাগ ধান পেকেছে, আমরা ফসল দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছি। বাকি ২৫ ভাগ ধান পাকতে আরও এক মাস সময় লাগবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, যে বছর বাঁশে ফুল আসে, সে বছর ইঁদুর বন্যার সমস্যা সৃষ্টি হয়। বাঁশের ফুল খেয়ে ইঁদুরের প্রজনন শক্তি বেড়ে যায়, এতে ইঁদুর বেড়ে গিয়ে জমির ফসল খেয়ে ফেলে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত