সড়কের দৈর্ঘ্য ৩৮ কিলোমিটার। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ১৩৫টি। স্থানে স্থানে ভাঙা-খানাখন্দ। সড়কের যে প্রশস্ততা তাতে ছোটখাটো দুটি গাড়ির পাশাপাশি চলা প্রায় অসম্ভব। ফলে এক ঘণ্টার এই পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা।
তারপরও ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ভোগ নিয়ে চলাফেরা করছেন হাজার হাজার মানুষ।
সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যাটাগরিতে জাতীয় মহাসড়কের পরই আঞ্চলিক মহাসড়কের অবস্থান। কিন্তু ১২ ফুট প্রস্থের আঞ্চলিক মহাসড়ক এটি ছাড়া দেশে আর দ্বিতীয়টি আছে বলে তাদের জানা নেই । সব আঞ্চলিক মহাসড়কই ৩৪ ফুট প্রস্থের হয়ে গেছে। তবে সড়কটি নতুন করে নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কোনাঘাট থেকে। আঞ্চলিক এই মহাসড়কের মূল অংশ শুরু। যা শেষ হয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কড়ইকান্দি ফেরিঘাটে গিয়ে। এরপরই ফেরিতে মেঘনা নদী পেরিয়ে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা-আড়াইহাজার হয়ে ঢাকা। ১২ ফুট প্রশস্ত এই সড়ক দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে প্রতিদিন ২ হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।
নবীনগর পৌর এলাকা, শ্রীরামপুর, রসুল্লাবাদ, শ্যামগ্রাম, রতনপুর ইউনিয়ন এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর, ছয়ফুল্লাকান্দি, দড়িকান্দি ইউনিয়ন ও বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার ১০-১৫ হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। কিন্তু স্থানে স্থানে সড়কের ভগ্নদশা, অপ্রশস্ততা এবং ক্ষণে ক্ষণে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সড়কে চলাচলকে দুরূহ করে তুলেছে। দুর্ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
ভুক্তভোগীরা জানান, ৩৮ কিলোমিটার এই পথ যেতে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা সময় লাগার কথা। সেখানে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাড়াও ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট এবং আশপাশের জেলার বিকল্প সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক এই মহাসড়ক প্রশস্ত ও মজবুত এবং বাঁক সরলীকরণ করে নির্মাণে ২০২৩ সালের ৪ঠা এপ্রিলে একনেকে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। ১১শ ৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ ও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আশার কথা হচ্ছে নতুন করে সড়কটি নির্মাণে একনেকে প্রকল্প পাস হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করার জন্য ১০টি এলএ কেস সৃজন করা হয়েছে। ৪ ধারার নোটিস দেওয়া হয়েছে। সড়ক নির্মাণে ৫টি প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান ও গ্রহণ করে টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন শেষ করা হয়েছে।’ আশা করি আগামী ২ মাসের মধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হবে। এর পাশাপাশি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হলে আমরা দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারব। সড়ক পুনঃনির্মাণে বাঁক সরলীকরণের পর সড়কটির দৈর্ঘ্য ৩২ কিলোমিটার হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রাজিব চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা অবগত রয়েছি, এ সড়কের বেশ কিছু বাঁক থাকার কারণে প্রতিনিয়ত অ্যাক্সিডেন্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল ও যান চালনায় আমরা চালকদের নির্দেশনাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেঘনা সেতুর নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে। তা না হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হবে।
