রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ইমাম মাহাদী দাবিদার নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলা, লুটপাট এবং কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় উসকানিদাতাদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নিষিদ্ধ দুই নেতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন—উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. মাসুদ মৃধা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হিরু মৃধা, গোয়ালন্দ পৌরসভার দেওয়ানপাড়ার শাফিন সরদার, এনামুল হক জনি, কাজীপাড়ার কাজী অপু এবং মৃধাডাঙ্গার হায়াত আলী। তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগসহ অন্য দলের কর্মীরাও জড়িত ছিল। ভিডিও ফুটেজ দেখে সবাইকে শনাক্ত করা হচ্ছে, তবে কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
এদিকে গোয়ালন্দ উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও উপজেলা ইমাম কমিটির সভাপতি মাওলানা জালাল উদ্দীন দাবি করেন, শুক্রবার জুমার পর শান্তি সমাবেশের অনুমতি ছিল, কিন্তু সেখানে অনুপ্রবেশ করে একদল লোক পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সহিংস কর্মসূচি ছিল না। পরবর্তীতে তারা যে লাশ পোড়ানোর মতো জঘন্য কাজ করেছে, তা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, ইসলামকেও কলুষিত করেছে। দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম এক বিবৃতিতে জানান, নুরাল পাগলা জীবিত অবস্থায় নিজেকে ইমাম মেহেদী দাবি করেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান চাইছিলাম। কিন্তু একটি পক্ষ কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়েছে। আমরা তাদের শাস্তি দাবি করছি।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার নুরাল পাগলার দরবারে হামলার ঘটনায় রাসেল মোল্লা নামে এক ব্যক্তি নিহত হন এবং অর্ধশতাধিক আহত হন। বিক্ষুব্ধ জনতা তখন দরবারে হামলা চালিয়ে কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেয়।
হামাসকে শেষবারের মতো সতর্ক করলেন ট্রাম্প
বায়ুদূষণে আজ ঢাকার অবস্থান কত?