একমঞ্চে প্রকৃত ‘পঞ্চপান্ডব’ 

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:০৮ পিএম

তারা যেসময়ে ক্রিকেট খেলতেন, তখন প্রযুক্তির এত রমরমা ছিল না। ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনাও ছিল না। তাই গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আকরাম খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও  খালেদ মাসুদ পাইলটদের একসঙ্গে একই মঞ্চে খুব একটা দেখা যায়নি। এনসিএল টি-২০ এর লোগো উন্মোচন অনুষ্ঠানে  বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ৫ অধিনায়ককে দেখা গেল একই মঞ্চে। সময় অবশ্য তাদেরকে ক্রিকেটার থেকে বানিয়েছে ক্রিকেট প্রশাসক। লিপু প্রধান নির্বাচক, বুলবুল ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, নান্নু সাবেক প্রধান নির্বাচক, আকরাম ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক আর পাইলট কোয়াব এর নির্বাহী সদস্য। ৫ সাবেক অধিনায়ক একসঙ্গে স্মৃতিচারণ করেছেন তাদের সোনালী দিনের, যার অনেকটা জুড়েই ছিল ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি।

বোর্ড সভাপতি বুলবুল বলছিলেন এক আড্ডার কথা, যেখানে আলোচনা হচ্ছিল ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফি জয় নিয়ে সিনেমা করার ব্যপারে। বুলবুল বলছিলেন, সেই আলোচনায় নাকি নায়িকা কে হবে সেটা নিয়েই সবচেয়ে আগ্রহী ছিলেন নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে আইসিসি ট্রফির ফাইনালে বাংলাদেশকে পৌঁছে দিয়ে বিশ্বকাপের দরজা খুলে দেয়া আকরাম। সেই দলের ম্যানেজার ছিলেন লিপু, তিনি জানিয়েছেন হোটেল থেকে মাঠে যাবার টিম বাসে সবসময় সবার পরে উঠতেন জাভেদ ওমর বেলিম। নান্নু জানিয়েছেন সেসময়ের তরুণ ক্রিকেটারদের সামলে রাখার কথা, পাইলট জানিয়ছেন বিকেএসপিতে অনুশীলনের সময় চারজন সিনিয়রের সঙ্গে রুমমেট থাকার গল্প। তাদের আড্ডা উপভোগ করছিলেন দর্শকরাও, লম্বা সব বক্তব্যের প্রবাহের পর এই ৫ কিংবদন্তীর সরস ও প্রাণবন্ত আলাপ  প্রাণ ফেরায় ঝিমিয়ে থাকা দর্শকসারীতে। 

হাস্যরসের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন ‘প্রকৃত পঞ্চপান্ডব’রা। আকরাম জানিয়েছেন চট্টগ্রামে আঞ্চলিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে সাড়া পাবার কথা, সেই সঙ্গে সব বিভাগেই এরকম আয়োজনের সদিচ্ছাও। বুলবুল বলেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি আরেকটি ৫০ ওভারের ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট আয়োজনের, সেই সঙ্গে প্রথম শ্রেণীর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা বিসিএলে তিনটা দেশীয় দলের পাশাপাশি একটি বিদেশী দল খেলানোর, যাতে খেলার মানটা বাড়ে। বিসিবি’র এক কর্মকর্তার কাছেই জানা গেল, চেষ্টা চলছে এই বছরই পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কার কোন প্রাদেশিক বা উদীয়মান দল অথবা আফগানিস্তানের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের দল আসতে পারে বিসিএল খেলতে। প্রধান নির্বাচক লিপু জানিয়েছেন এনসিএল টি-২০তে খেলাটা দেশের ক্রিকেটারদের বড় সুযোগ। এখন প্রতি ২ বছরে একবার টি-২০ বিশ্বকাপ হয়, এই ফরম্যাটে ভাল করলে জাতীয় দল এবং বিপিএল সহ অনেক সুযোগ আসবে। রাজশাহীতে ক্রিকেট আয়োজনের আনন্দ ছুঁয়ে গেছে পদ্মাপাড়ের ছেলে পাইলটকেও। আর নান্নু বলেছেন এনসিএলের পিকনিক মেজাজ আর নেই, কঠিন প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে এখন এই আয়োজনে। সব মিলিয়ে উপভোগ্য আলাপে অতীত বর্তমান আর ভবিষ্যত; তিনটি সময়কেই।

এনসিএল টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়াচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে। শুরুতে খেলা হবে রাজশাহী ও বগুড়াতে, চলবে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে খেলা চলবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের দুটো মাঠে। ৩ অক্টোবর ফাইনাল হবে সিলেটে। আসরের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাঙ্ক। সহ পৃষ্ঠপোষক ওয়ালটন,লিলি এবং এইস প্রোপার্টিজ। খেলা দেখাবে টি স্পোর্টস, অ্যাপে দেখা যাবে ফ্যানকোড ও ট্যাপম্যাডে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত