নেপালে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:১৪ এএম

নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দেশটিতে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে এবং সেখানে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের অবস্থানকৃত স্থান বা হোটেল থেকে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।

গতকাল মঙ্গলবার কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের দূতাবাস এ সংক্রান্ত সতর্কবার্তা জারি করেছে। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, নেপালে আগত সব বাংলাদেশি যাত্রীকেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নেপালে ঘোরাফেরা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ভ্রমণ-ইচ্ছুক সব বাংলাদেশি নাগরিককে আপাতত নেপাল ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে বাংলাদেশিদের +৯৭৭৯৮০৩৮৭২৭৫৯ অথবা +৯৭৭ ৯৮৫১১২৮৩৮১ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

৩৬ সদস্যের জাতীয় ফুটবল দল এবং মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) থেকে ৫১ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বিদেশে শিক্ষা সফরের অংশ হিসেবে নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছে। তাদের দৈনিক কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় ১২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।

বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় সমন্বয়কারীর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে বলে প্রেস উইংয়ের পাঠানো বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, নেপালে সরকারের দুর্নীতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে গত সোমবার তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেন। ভাইসেপতিতে মন্ত্রীদের বাসভবনেও তারা আগুন ধরিয়ে দেন। ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি করা হয়। মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।

‘জেন-জি আন্দোলন’ নামে পরিচিত এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগ। শত শত বিক্ষোভকারী তার দপ্তরে প্রবেশ করার পর, গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত