‘এই হংকং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২০০ রান করা উচিত’

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:২০ এএম

‘এই হংকং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২০০ রান করা উচিত’, নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে এমনই বিশ্লেষণ বাংলাদেশের একজন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞের। উচিত তো অনেক কিছুই, তবে খেলার মাঠে সবকিছু তো আর ঐকিক নিয়মে হয় না! হলে তো ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে হংকং-এর কাছে হারতে হতো না বাংলাদেশকে। তারকাখ্যাতি এবং পরিসংখ্যান, সব মানদ-েই ঘরের মাঠে টি-২০ বিশ্বকাপের দলটি এগিয়েই ছিল এশিয়া কাপে খেলতে যাওয়া বর্তমান বাংলাদেশ দলের চেয়ে। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ এমনকি নাসির হোসেন, রুবেল হোসেন আর চিরকালীন আক্ষেপের নাম হয়ে থাকা সাব্বির রহমানও ছিলেন সেই দলে। তারপরও হংকং-এর বিপক্ষে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ১৬.৩ ওভারের বেশি টেকেনি, অলআউট হয় ১০৮ রানে। যে ম্যাচটা হংকং জিতে যায় ২ উইকেটে। ‘সুবাসিত বন্দর’ (চীনা ভাষায় হংকং শব্দের এটাই মানে) এর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দেশের বন্দরনগরীতে হারের সেই ক্ষতে সময় মলম দিয়েছে ঠিকই, তবে দাগ রয়ে গেছে।

প্রতিপক্ষ যত ছোট বা দুর্বল, বাংলাদেশ দলকে নিয়ে দুশ্চিন্তাটা ততটাই বেশি। সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হারার রেকর্ড তো বাংলাদেশের আছেই, এরই সঙ্গে হংকং, স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস এমনকি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও হারের অগৌরব বাংলাদেশের সঙ্গী। কেউ কেউ বলবেন এতেই ক্রিকেটের অনিশ্চয়তার সৌন্দর্য, তবে এই সব সৌন্দর্য যেন শুধুই বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য। কারণ বড় দলগুলোর বিপক্ষে আবার এই একই সূত্রে বাংলাদেশ জিততে পারে কমই! বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন দাস ‘ক্যাপ্টেন্স মিট’-এ বলেছেন তিনি ইতিহাস ভাঙতে চান। ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ভেঙে ফেলা গেলেও ইতিহাস ভাঙা যায় না, যে কারণে ভারতে বিজেপি সরকার নানান কায়দা করেও ইতিহাস থেকে মুঘল শাসকদের অবদান মুছে ফেলতে পারছে না। তবে ইতিহাস যেহেতু জয়ীরাই লেখে, লিটন ম্যাচটা জিতিয়ে নতুন ইতিহাস লিখতে পারেন। অবশ্য আরব আমিরাতের কাছে সিরিজ হেরে যাওয়া দলের অধিনায়ক হিসেবে একটা ইতিহাস তিনি লিখেই ফেলেছেন!

হংকং, আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ডস; এসব দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলত আইসিসি ট্রফিতে। ইদানীং এসব দলের বিপক্ষেই বাংলাদেশ বেশি বেশি খেলছে, এই বছর খেলা ১৫ টি-টোয়েন্টির ৬টিই তো আমিরাত আর নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে! হংকং-এর বিপক্ষে ২০০ রান করা উচিত, তবে করে সেই রানটা বাঁচাতে পারবে কি না বাংলাদেশ সেটাও প্রশ্ন। শারজায় আরব আমিরাতের বিপক্ষে মাস তিনেক আগে তো ২০৫ রান করেও ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ! তবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হংকং-এর ব্যাটিং দেখে মনে হয় না তাদের সেই বারুদ আছে। আগে ব্যাট করে আফগানিস্তান করেছে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান, জবাবে ৯ উইকেটে ৯৪ রান করে হংকং, ম্যাচটাও হেরেছে ঠিক ৯৪ রানে। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে গেছে এখানেই। হংকংকে শুধু হারালেই হবে না, ব্যবধানটাও হতে হবে বড়। তা না হলে রান-রেটে পিছিয়ে পড়তে হবে।

মূল প্রতিযোগিতার আগে যেমন গা গরমের ম্যাচ থাকে, হংকং-এর বিপক্ষে ম্যাচটা অনেকটা সে রকমই। জিতলে বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নেই, তবে হারলে ক্ষতটা হবে গভীর। বাংলাদেশের শক্তির জায়গাটা বোলিং। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, শেখ মেহেদি হাসান আর রিশাদ হোসেনদের নিয়ে লিটনের হাতে বিকল্প অনেক। সমস্যার জায়গাটা এখনো ব্যাটিং। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন আর তানজিদ হাসান তামিম; দুজনে একসঙ্গে ভালো শুরু এনে দিতে পারছেন না। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজেই যেমন, তামিম ৭৩* অথচ ইমন ১। আবার পাকিস্তানের বিপক্ষে ইমন ৫৬* অন্যদিকে তামিম ১। শুরুতে উইকেট হারানোর অভ্যাসটা বদলায়নি বাংলাদেশের। ওয়ানডাউনে লিটন, ডাচদের বিপক্ষে সিরিজ সেরা হলেও ব্যাটিংটা মন ভরায়নি। তবে হংকং-এর বিপক্ষে হয়তো উৎরে যাবেন।

হংকং-এর মিডিয়াম পেসাররাই আফগান ব্যাটসম্যানদের কাছে মার খেয়েছেন বেশি, আয়ুশ শুকলা আর আতিক ইকবাল। স্পিনাররা বরং মন্দের ভালো। সাদেকুল্লাহ আতাল আর আজমতউল্লাহ ওমরজাই বাদে আফগানদের কেউই খুব বেশি রান করেননি; রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরান করেছেন যথাক্রমে ৮ এবং ১। এই পরিসংখ্যানে আশাও আছে আবার আতঙ্কও আছে। রান, অভিজ্ঞতা এবং সামর্থ্য বিচারে এই দুজনের কাছাকাছি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানই নেই। এই দুজন যত জায়গায় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলেছেন, বিশেষ করে গুরবাজ, বাংলাদেশ দলের কোনো ব্যাটসম্যানেরই সেই সৌভাগ্য হয়নি। হংকং-এর বিপক্ষে তাদের রান না পাওয়া মানেই তামিম-ইমন-লিটনদের জন্য আশঙ্কা। আর লোয়ার মিডল অর্ডার তো ব্যাটিংয়ের সুযোগই পেল না প্রস্তুতিপর্বে।

বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা, বোলিং সামর্থ্য দিয়ে হয়তো উৎরেই যাবে বাংলাদেশ, তবে ব্যবধানটা বড় হবে কি না সেটাই দেখার। কারণ পরের ম্যাচটা আফগানিস্তানের সঙ্গে, যে ম্যাচটা হারা বা জেতার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে আবুধাবিতে কতদিন থাকতে হবে লিটনদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত