মহাসড়কের ওপর চার স্থানে বসে হাট!

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩৫ এএম

মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলাধীন অংশের ওপর চারটি স্থানে দীর্ঘদিন ধরে হাট বসে। এর ফলে সৃষ্ট যানজটের কারণে পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের নাকাল অবস্থা। হাটের দিনগুলোতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম।

জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার তিনটি স্থান অর্থাৎ সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী, সাতৈর বাজার এবং শেখর ইউনিয়নের বড়গাঁয় সাপ্তাহিক হাট বসে সোমবার ও বৃহস্পতিবার। কাদিরদী থেকে সাতৈর বাজারের দূরত্ব সাত কিলোমিটার। আবার সাতৈর বাজার থেকে শেখর ইউনিয়নের বড়গাঁ নামক স্থানের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। এই আঞ্চলিক মহাসড়কটির তিনটি স্থানে স্বল্প দূরত্বে একই দিন (সোমবার ও বৃহস্পতিবার) সাপ্তাহিক হাট বসায় যানজট লেগে ফরিদপুর থেকে আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীগামী যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এর ফলে বাসযাত্রীরা ব্যর্থ হচ্ছেন কাঙ্ক্ষিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে। এদিকে শেখর ইউনিয়নের বড়গাঁ থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত একই ইউনিয়নের সহস্রাইল বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে শুক্রবার ও মঙ্গলবার। সহস্রাইল বাজারের সাপ্তাহিক হাটও মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বসায় এই দুইদিনও যানজটে থমকে যায় হাজারো মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের বড়গাঁ বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিন মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর এলোমেলো করে পাটভর্তি ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন পথচারী, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন যানে চলাচলকারী যাত্রীরা।

স্থানীয়রা জানান, বড়গাঁ বাজারে হাট বসে সোমবার ও বৃহস্পতিবার। পাটের মৌসুমে বড়গাঁ বাজারের ওপর দিয়ে যাতায়াতে সপ্তাহের ওই দুই দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষকে। হাটের দিনে সহস্রাইল বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে, কোথাও মহাসড়কটির উপরেই কাঁচাবাজারের অস্থায়ী দোকান বসেছে। দোকানিরা বিভিন্ন প্রকার সবজি, মসলা, দেশি ফলের পসরা মিলিয়ে বসেছেন। এতে সড়কে যেমন ক্রেতাদের ভিড়ে পথচারীদের চলাচল কষ্টকর; তেমনি যানবাহনের দীর্ঘ লাইনে অসহনীয় যানজটে হাঁসফাঁস অবস্থা যাত্রীদের। এ ছাড়া একই উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদী ও সাতৈর বাজারের সাপ্তাহিক হাটও মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর বসে। সড়কের ওপর হাট বসায় ভিড়ের কারণে যানবাহন ক্রসিং করতে পারে না। যার ফলে তৈরি হয় যানজট।

সহস্রাইল বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক এলিনা খাতুন বলেন, সহস্রাইলে হাটের দুইদিন এ আঞ্চলিক মহাসড়কটির উভয় পাশের একাংশের ওপর কাঁচাবাজার বসার কারণে পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সকাল থেকেই সহস্রাইল বাজারে যানজট লেগে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ব্যক্তি বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাসের যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় কৃষক ও ভ্যানচালকদের বচসা হয়। খান এন্টারপ্রাইজ নামক ওই লোকাল বাসটি আধা ঘণ্টার ওপরে বড়গাঁ নামক স্থানে যানজটে আটকে থাকে। এতে যাত্রীরা অধৈর্য হয়ে পড়লে পাট বহনকারী ভ্যান চালকদের মহাসড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে পাট বিক্রি করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এতে কৃষক ও ভ্যানচালকরা একত্রিত হয়ে যাত্রীদের ওপর মারমুখী হয়ে পড়েন।

পার্শ্ববর্তী বনমালীপুর জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বোয়ালমারী পৌর এলাকার বাসিন্দা শাপলা খানম বলেন, প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার ও মঙ্গলবার সহস্রাইলে সাপ্তাহিক হাট বসে। সকাল আটটা থেকেই ভিড় শুরু হয়। এজন্য প্রতিদিনের থেকে ওই দুই দিন বাড়ি থেকে আধাঘন্টা আগে বাসযোগে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। তারপরও জ্যামে পড়ে যাই। কখনও কখনো সঠিক সময়ে স্কুলে যেতে পারি না।

বড়গাঁর স্থায়ী বাসিন্দা অনিক মিয়া বলেন, সাপ্তাহিক হাটের দিনগুলোতে নিদারুণ কষ্টে থাকেন পথচারীরা। সড়ক থেকে কিছুটা দূরে নির্ধারিত কোনও প্রশস্ত জায়গায় হাট বসাতে বণিক সমিতি ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

বোয়ালমারী পৌরসভার বাসিন্দা সুমন রাফি বলেন, আমার প্রায়শই ফরিদপুর ও আলফাডাঙ্গা যেতে হয়। মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরের ৪টি স্থানে হাট বসায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর হাটের কারণে সৃষ্ট যানজটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বড়গাঁ বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মঞ্জু বলেন, ভালো একটা কথা বলেছেন। আমি দুই-এক দিনের মধ্যে এ ব্যাপারে বাজার বণিক সমিতির একটা মিটিং ডাকবো। সেখানে যে সিদ্ধান্ত হয় জানাব।

এ ব্যাপারে সহস্রাইল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি চুন্নু বিশ্বাস বলেন, কাঁচাবাজারের জন্য এর আগে নির্দিষ্ট একটা জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম। সেখানে আমরা বণিক সমিতির পক্ষ থেকে কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের বসিয়েছিলাম। মাস দুয়েক-তিনেক পরে দোকানদাররা মব-বিশৃঙ্খলা করে সড়কের ওপর আবার তারা তাদের পণ্য নিয়ে বসেন।

মাইজকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপরের চারটি স্থানে সাপ্তাহিক হাট বসায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ব্যাপারে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে কি-না জানতে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে ফরিদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সফিকুর রহমানের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। এরপর উল্লিখিত বিষয়ে মন্তব্য চেয়ে উভয়কে ইমেইল করলেও এক সপ্তাহেও কোনও সাড়া মেলেনি।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, এ বিষয়টি আমি অবগত আছি। আমি ইতোমধ্যে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলেছি। যাতে সড়কে যানজট না হয়। একাজে গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়োজিত করার ব্যাপারে চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এরপরেও যদি কাজ না হয় তাহলে রোডস অ্যান্ড হাইওয়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, হাইওয়ের ওপর বেশ কয়েকটা বাজার থাকলেও সহস্রাইল বাজারটায়ই বেশি সমস্যা। সহস্রাইল বাজার সরিয়ে যে অন্য জায়গায় দেব আশেপাশে সেরকম কোনও সরকারি জায়গাও নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত