গাজা সিটিতে চলমান হামলার মধ্যে উপকূলীয় শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেওয়া স্থানান্তরিত ফিলিস্তিনিদের জীবন ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই আবার বোমার মুখে পড়ে থাকা শহরের দিকে ফিরে যাচ্ছেন। খবর: রয়টার্স।
স্থানান্তরিতরা জানিয়েছেন, শিবিরের ভিড়, পর্যাপ্ত তাবু ও পানি না থাকা এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
পরিস্থিতি অনুযায়ী, গাজা সিটির পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা ও দক্ষিণের মাওয়াসি শিবিরে আশ্রয় চাইছেন লোকজন। মাওয়াসি শিবির সমুদ্র তট ও কৃষি জমির পাশে বিস্তৃত একটি এলাকা, যা ইসরায়েল মানবিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেখানে পৌঁছানো বহু পরিবারই কোনো তাবু, পর্যাপ্ত পানি বা স্বাস্থ্যসেবা পায়নি।
মোহাম্মদ আল-শেরিফ (৩৫) বলেন, ‘আমি দুই দিন ধরে সূর্যের তাপে আশ্রয় খুঁজছি, কিন্তু কোনো জায়গা পাইনি। তাই সব মালামাল নিয়ে আবার গাজা সিটিতে ফিরে যেতে হয়েছে।’ শেরিফ এবং তার পরিবারের সদস্যরা গত সোমবার সাবরা এলাকা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন।
গাজার অভ্যন্তরে যাতায়াত ধীর এবং ব্যয়বহুল। শেরিফের পরিবার তাদের সব মালামাল গাধার গাড়িতে ভর্তি করে মাওয়াসি পৌঁছালে, ভিড়ের কারণে তারা কোনো তাবু বা থাকার জায়গা খুঁজে পাননি। তিনি বলেন, ‘এটা শুধু আমাদের সমস্যা নয়, সবার। মানুষ আসে, জায়গা না পেলে আবার চলে যায়, আমরা জানি না কী করা উচিত।’
স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, মাওয়াসি আগেই তাবু দিয়ে ভরপুর। গাজার কৃষি জমিও সীমিত। সাহায্য সংস্থাগুলো বলেছে, পর্যাপ্ত জমির অভাবে খাদ্য উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে পুষ্টিহীনতা।
ইসরায়েল গত মাসে গাজা সিটিতে হামলা তীব্র করেছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে আটক বাকি বন্দিদের মুক্তি দিতে এই অভিযান চলছে। এছাড়া সব নাগরিককে মাওয়াসিতে সরানোর আহ্বান জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় ১১ জন এবং আল-শাতি শিবিরে ৫ জন নিহত হয়েছেন। হামাস-শাসিত গাজার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২ মিলিয়নের মধ্যে ১.৩ মিলিয়ন মানুষ এখনও গাজা সিটিতে ও উত্তরে অবস্থান করছেন।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থাগুলোর অন্তর্ভুক্ত সিসিসিএম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্ট ৩১ থেকে সেপ্টেম্বর ৭ পর্যন্ত ২০ হাজার মানুষ পালিয়েছে, এবং সেপ্টেম্বর ৭ থেকে ১০ পর্যন্ত আরও ২৫ হাজার জন শহর ত্যাগ করেছে।
জাতিসংঘের মানবিক দল মাওয়াসিকে মানবিক এলাকা হিসেবে ইসরায়েলের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, ‘যেসব মানুষ সেখানে আসছেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, এবং সেখানে সেবার পরিমাণ যথেষ্ট নয়।’
মাওয়াসির বিদ্যমান বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ভিড় এত বেশি যে নতুন আসা মানুষদের জন্য জায়গা নেই। আবু ফাদি আবু ওদা বলেন, ‘মানুষদের থাকার জায়গা নেই। তারা একে অপরের সঙ্গে ঝগড়া করছে।’
গাজা সিটির অভ্যন্তরে অনেক পরিবার আশ্রয়ের জন্য সঠিক জায়গা না পাওয়ায় ফিরে আসছে। আহমেদ আবু ডেয়া জানান, ‘আমরা পায়ে হেঁটে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের কাছে জমি, তাবু বা পানির মতো মৌলিক চাহিদা নেই।’
স্থানান্তরিত পরিবারগুলোর জন্য দক্ষিণে যাতায়াত ব্যয়বহুল। এক ব্যক্তি বললেন, যাতায়াত খরচ ৬০০ ডলার এবং নতুন তাবু ১ হাজার ২০০ ডলার। অধিকাংশের পক্ষে এত ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়।
জাতিসংঘ ও সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রায় ছয় মাস ধরে ইসরায়েল আশ্রয়ের উপকরণের সরবরাহে বাধা দিয়েছে। আগস্ট মাসে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও খুব সামান্য তাবু প্রবেশ করছে। ইউনিসেফ-এর টেস ইংগ্রামস বলেন, মাওয়াসিতে খুব কম জায়গা খালি আছে এবং শিবিরের অভ্যন্তরীণ অংশে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।
রাইদা এল-ফার, যিনি ছোট শিশুদের নিয়ে উন্মুক্ত আগুনে রুটি বানাচ্ছেন, জানিয়েছেন, তিনি পাঁচবার স্থানান্তরিত হয়েছেন। এখন একটি তাবুতে থাকতে হচ্ছে যেখানে পাশের আবর্জনা জমে আছে এবং রাতের বেলায় রাস্তার কুকুর ঘুরে বেড়ায়। তিনি বললেন, ‘যেখানে যাই, কোনো নিরাপত্তা নেই। যুদ্ধ শেষ হোক। আমরা খুব ক্লান্ত।’
রান রেট বাড়ানোর চেয়ে ম্যাচ জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ: হৃদয়