বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উৎকর্ষধর্মী কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ফটোগ্রাফি কোর্সের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কোর্স সমাপনী প্রদর্শনী ‘বাদ্যযন্ত্রে বাঁধা জীবন’ শুরু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম তলার চিত্রশালায়। নিজেদের প্রদর্শনীর বিষয় হিসেবে ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বেছে নিয়েছেন মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া গ্রামের ‘মনিদাশ’ পাড়ার অধিবাসীদের জীবন ও জীবিকাকে, যারা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মনিদাশ পাড়ার ৩৫টি পরিবারের শতাধিক ব্যক্তি বর্তমানে এই জীবিকার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের তৈরি বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা রয়েছে দেশ জুড়ে। স্থানীয়ভাবে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বসতিকে (মনিদাশ পাড়া) ‘ঢাকঢোল’ পাড়া বলে অবিহিত করে।
বাদ্যযন্ত্র কেবল সুর তৈরির একটি সরঞ্জাম নয়, এটি একটি জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশও বটে। জারি, সারি, মুর্শিদি, মারফতি, মাইজভা-ারি, সাঁওতালি, বাউল, ঝুমুর, ভাদু, টুসু, কবিগান, পালাগানসহ নানারকম গানের তালে বেজে ওঠে নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র। লোকগানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ঢাক, ঢোল, খোল, ডুগি, নাল, কঙ্কন, একতারা, দোতারা, সারিন্দা প্রভৃতি হাতে তৈরি বাদ্যযন্ত্র। যুগ যুগ ধরে এসব বাদ্যযন্ত্র তৈরি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন দেশের একশ্রেণির প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। মনিদাশপাড়ার অধিবাসীরা এ রকম বাদ্যযন্ত্র বানানোর কাজেই জড়িত। ফটোগ্রাফি কোর্সের সমাপনী অ্যাসাইনমেন্টে চেষ্টা থাকে এমন প্রান্তিক কিন্তু সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনাচরণ ক্যামেরার সাহায্যে প্রামাণ্যচিত্ররূপে ধারণ করা। তারই অংশ হিসেবে আলোর ইশকুল আলোকচিত্র চক্রের ১০ম ব্যাচের সদস্যরা তুলে ধরেছেন বাদ্যযন্ত্র তৈরির শ্রমসাধ্য অথচ সূক্ষ্ম ধাপগুলো।
‘বাদ্যযন্ত্রে বাঁধা জীবন’ শিরোনামের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন মোট ৬৫ জন নবীন আলোকচিত্রী। তাদের ৬৫টি আলোকচিত্রে ফুটে উঠেছে বাদ্যযন্ত্র নির্মাণশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবন অর্কেস্ট্রা। আলোকচিত্রে তারা ফুটিয়ে তুলেছেন কীভাবে বাঁশ, কাঠ, চামড়া, ধাতু প্রভৃতি উপাদান কারিগরদের হাতের ছোঁয়ায় রূপান্তরিত হয় সুরের উৎসে। যদিও সুর তৈরির জন্য নিরত সংগ্রাম করা এই মানুষগুলোর জীবন এখন আর নয় ততটা সুমধুর। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন বাদ্যযন্ত্রের প্রাবাল্যে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক কারিগরই জীবিকার তাগিদে পূর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা। আলোকচিত্রীরা ফুটিয়ে তুলেছেন এই অন্তর্গত সংগ্রামও।
১১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে রবি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
