জতীয় ঐকমত্য কমিশনের চূড়ান্ত করা জুলাই সনদ স্বাক্ষরের জন্য বিএনপি, এনসিপিসহ ১৫টি রাজনৈতিক দল প্রতিনিধির নাম পাঠিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ ১৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের জন্য প্রতিনিধির নাম পাঠায়নি। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে সব দল তাদের প্রতিনিধির নাম পাঠাবে বলে কমিশন আশাবাদী। আগে বিষয়টি নিয়ে জতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপে অংশ নিয়েছিল ৩০টি দল।
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, ‘জুলাই সনদের বিষয়ে দলগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সমীচীন হবে না। তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করব। তাদের বক্তব্য পাওয়ার পর আমরা বিবেচনা করব।’
কমিশন সূত্র জানায়, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের জন্য দলগুলোকে গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যে দুজন প্রতিনিধির নাম পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে বিএনপি, এনসিপিসহ ১৫টি দল তাদের প্রতিনিধির নাম পাঠিয়েছে।
জানা গেছে, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে দুজনের নাম পাঠানো হয়েছে। তারা হলেনমহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের নাম পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন। তবে স্বাক্ষর করা বা না করার বিষয়ে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে এনসিপির নির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবিতে অনড় থাকার এবং এজন্য রাজনৈতিক আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সনদ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গণপরিষদ থাকবে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে এনসিপি।
এখনো প্রতিনিধির নাম না পাঠানো জামায়াতের পক্ষ থেকে শর্ত দিয়ে বলা হয়েছে, জুলাই সনদের ‘বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া’ ঠিক হলে স্বাক্ষরের জন্য প্রতিনিধির নাম পাঠাবে তারা। অবশ্য কমিশনের আজ (রবিবার) বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তারা। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ‘সনদ হলে তবেই স্বাক্ষরের বিষয় আসবে। কমিশনের আলোচনা দেখে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন জানান, তারা সনদ স্বাক্ষরের জন্য প্রতিনিধির নাম পাঠাবে। তবে নি¤œকক্ষে পিআর পদ্ধতির প্রধান দাবি নিয়ে সনদে কিছু না থাকায় দাবির পক্ষের দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, সনদের জরুরি কিছু সংশোধনের দাবি জানিয়ে তারা প্রতিনিধির নাম পাঠাবে। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সনদের কিছু সংশোধনের শর্ত উল্লেখ করে তারা প্রতিনিধির নাম পাঠাবে। তবে শর্ত পূরণ না হলে সনদে স্বাক্ষর করবে না তারা।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, প্রতিনিধির নাম পাঠাতে তাদের সময় লাগবে। সংবিধানের চার মূলনীতি অক্ষুণœ রাখাসহ তাদের দাবিগুলো কমিশন এড়িয়ে গেলে সনদে স্বাক্ষর করবে কি না, তা ভেবে দেখার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বাসদ (মার্কসবাদী) দলের পক্ষে দুজন প্রতিনিধির নাম পাঠানোর পাশাপাশি একাধিক আপত্তি জানানো হয়েছে।
নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আনোয়ার বলেন, দলটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকার বাইরে থাকায় প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে রাতের মধ্যে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দলগুলোকে আগে দুই দফা খসড়া দেওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত জুলাই সনদ পাঠিয়েছে জতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে সবার মতের প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে জানিয়ে আর মতামত নেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। এই সনদ স্বাক্ষরের সময় ও স্থান পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে ওইদিন সংলাপে দলগুলোকে জানানো হয়।
এদিকে, আজ রবিবার সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দিনের বৈঠকে বসবে ঐক্য কমিশন। দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হওয়া বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন। তিনি সেখানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন। তার প্রেক্ষিতে দলগুলো তাদের মত পরিবর্তন করতে পারে বলে কমিশন মনে করে।
