‘নাগিন ডার্বি’র ৬ ঘণ্টা আগে পাপনের স্মৃতি ফেরালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৪৩ পিএম

এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ জয়ের পর ‘নাগিন ডার্বি’তে শ্রীলঙ্কার কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ইতোপূর্বে দেখা গেছে, দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসন পাপন ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন সিরিজ বা টুর্নামেন্টে বিদেশ সফর করতেন। গতকাল দেখা গেল ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে বাংলাদেশের টিম হোটেলে গিয়ে ক্রিকেটারদের উৎসাহ দিতে।

হংকংকে গুঁড়িয়ে দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও গতকাল বাজে ব্যাটিংয়ে মাত্র ১৩৯ রান তুলতে পারে। ৩২ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। আবুধাবিতে ম্যাচ শুরুর মাত্র ৬ ঘণ্টা আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। আবুধাবিতে ক্রিকেটারদের সাথে ক্রীড়া উপদেষ্টা। ছবি: বিসিবি

তার এই সাক্ষাতের সময়সূচি দেখে অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। কারণ, ম্যাচের আগের ওই সময়টায় ক্রিকেটাররা ব্যস্ত থাকেন প্রস্তুতি কিংবা টিম মিটিংয়ে। এ সময় বিশ্রাম নেওয়ারও একটা প্রয়োজনীয়তা থাকে। বাংলাদেশের সাবেক এক অধিনায়ক তো বিস্ময় প্রকাশ করে বলেই ফেললেন- এত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খেলোয়াড়দের কেন ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে যেতে হলো, সেটা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এর আগে এক যুগের শাসনামলে এমন কাণ্ড করতে দেখা যেত সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। গত ২০২২ এশিয়া কাপেও তিনি দলকে উৎসাহ দিতে দুবাই গিয়েছিলেন। কাকতালীয়ভাবে সেটাও ছিল শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে। সেই ম্যাচটিও বাংলাদেশ হেরেছিল ২ উইকেটে। তাই গতকাল শ্রীলঙ্কা ম্যাচের পর থেকে উৎসাহ প্রদানের সেই পুরনো আলোচনা আবার ফিরে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এর আগে ২০২০ সালের পাকিস্তান সফরেও পাপন দলবল নিয়ে উৎসাহ দিতে গিয়েছিলেন। ২০২৩ বিশ্বকাপেও গিয়েছিলেন ভারতে। আবুধাবিতে ক্রিকেটারদের সাথে ক্রীড়া উপদেষ্টা। ছবি: বিসিবি

এদিকে ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি আসন্ন এশিয়া কাপের শ্রীলঙ্কা ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের শুভেচ্ছা জানাতেই গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি আজ (গতকাল শনিবার) বাংলাদেশ জিতবে। দলের বর্তমান চেতনা দেখে আমরা এশিয়া কাপে ভালো ফলাফলের আশাই রাখছি। হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর আমি অনেক আশাবাদী হয়ে উঠেছি।’

যদিও এদিন বাংলাদেশ খুবই বাজেভাবে হেরেছে। সুপার ফোরের সমীকরণও কঠিন হয়ে গেছে। পরের ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে, যদিও ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিমত্তায় আফগানরাই এগিয়ে আছে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ (-০.৬৫০) এবং হংকংয়ের (-২.৮৮৯) নেট রানরেটই সবচেয়ে খারাপ। সুপার ফোরে যেতে হলে বিশেষ কিছুই করতে হবে লিটনদের।

তবে হতাশ নন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আশাবাদী থাকা উচিত। আমাদের আরেকটি ম্যাচ বাকি আছে। ধারাবাহিকতা নিয়ে একটা প্রবলেম আছে। আশা করি পরের ম্যাচে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ বাংলাদেশ পরের রাউন্ডে যেতে পারবে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা পারফর্মেন্সের ওপর নির্ভর করছে। পরের ম্যাচ দেখলেই বোঝা যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত