তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, খুলে দেওয়া হয়েছে জলকপাট

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:২৫ এএম

উজানের ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে লালমনিরহাট জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে পানির সমতল দাঁড়িয়েছে ৫২.১৮ মিটার, যা বিপদসীমা (৫২.১৫ মিটার) থেকে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। 

তিস্তা ডালিয়া পয়েন্টের পানির লেভেল পরিমাপক নুরুল ইসলাম বলেন, “উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমারসহ উত্তরের আরও কয়েকটি নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারি, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। 

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের গোবর্দ্ধন গ্রামের কৃষক আমিনুল হোসেন বলেন, “নদীর পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করায় চরাঞ্চলের রাস্তা-ঘাট ডুবে গেছে। আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি।”

হাতীবান্ধা উপজেলার ডায়াবাড়ি ইউনিয়নের দিনমজুর এনামুল কবির জানান, “অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে, পশুপাখি ও শিশু-বৃদ্ধদের নিয়ে মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। এখনো কোনো সহায়তা মেলেনি।” 

হাতীবান্ধা সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর ইসলাম বলেন, তার ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। মানুষের কষ্ট লাঘবে জরুরি ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “উজানের ঢল ও বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত