বন্ধুরাষ্ট্রগুলো এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিরোধিতা করছে

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৮ এএম

বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ তিন বছর পেছানোর চেষ্টা করছে সরকার। তবে আশাবাদী হওয়া উচিত হবে না। কারণ জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ কিছু বন্ধুরাষ্ট্র এটির বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিড আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও এলডিসি উত্তরণ’ বিষয়ক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম এ রাজ্জাক, নির্বাহী পরিচালক ড. মো. আবু ইউসুফ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা প্রমুখ। কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাংবাদিকরা অংশ নেন।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘আমি গত পরশু একটা বিদেশি টিমের সঙ্গে কথা বলেছি উত্তরণ পেছানোর জন্য। কিন্তু এটা আমরা একটু ক্ষীণ স্বরে করছি।’ কেননা এ বিষয়ে তেমন আশাবাদী হওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন। কেন এ বিষয়ে আশাবাদী হতে পারছেন না, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে মাহবুবুর রহমান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভোটের মাধ্যমে প্রস্তাব আনতে হয়। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে একবার এনেছে। এখন নতুন করে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ থেকেও বাধা আসছে জানিয়ে তিনি খুব বেশি আশাবাদী না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে যারা প্রতিযোগিতা করে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বন্ধু দেশ যাদের আপনারা অ্যাপারেন্টলি মনে করেন, তারাই প্রথম আমাদের এটার বিরোধিতা করে। জাপান বিরোধিতা করে। তুরস্ক বিরোধিতা করে। ভারত বিরোধিতা করে; যুক্তরাষ্ট্র বিরোধিতা করে।’

তিনি বলেন, ‘আপনি তাহলে কীভাবে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অনুমোদন করাবেন? কাজেই আমরা তাদেরই (ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র) কারিগরি সহায়তা নিচ্ছি। এই যে যারা যারা বিরোধিতা করছে, তাদের দিক থেকে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যাতে তারা বিরোধিতাটা না করে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এটা চেষ্টা করছি যে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন করতে। যদি আমরা তিন বছর পেছাতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের অর্থনীতির জন্য খুবই ভালো হবে। আমরা কাজ করছি। সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিচ্ছি। আশা করি যে, আমরা চেষ্টার কোনো ত্রুটি করব না।’

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৮ সালে। চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতির সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। কিন্তু করোনা অতিমারীর কারণে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় দুই বছর। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে ইউরোপের রপ্তানি বাজারে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে ২০২৬ সালের পর সেই সুবিধা আর থাকবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সময় এলডিসি উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। গত ২৪ আগস্ট দেশের শীর্ষ ১৬টি বাণিজ্য সংগঠনের নেতারা উত্তরণ তিন থেকে পাঁচ বছর পিছিয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা হারানো, ওষুধ ও তৈরি পোশাকশিল্পের সংকট মোকাবিলা এবং বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার প্রস্তুতির জন্য এই অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে তারা দাবি পেশ করেন। এরপর সরকারও সময় পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত