দীর্ঘ ২৮ বছর পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার যেকোনো সময় কমিশনের নাম ঘোষণা হতে পারে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে কে দায়িত্ব পাবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন নাম প্রস্তাব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাদের দাবি, কমিশন হতে হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। দলীয় পরিচয় বা আদর্শগত পক্ষপাতদুষ্ট কাউকে দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আফরোজা বিনতে মায়েশা বলেন, ‘আমরা চাই শাকসু নির্বাচন শুধু ভোট নয় এটা যেন হয় গণতন্ত্র শেখার এক বাস্তব পাঠ। এ জন্য এমন কমিশন দরকার, যারা দেখাবে কীভাবে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন আয়োজন করা যায়। এবার সুযোগ এসেছে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের।’
সাবেক সমন্বয়ক দেলোয়ার হোসেন (শিশির) বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনার এমন হতে হবে, যিনি শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন এবং প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করবেন। তিনি যেন সাহসের সঙ্গে অনিয়ম বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন।’
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাবরিনা নওশিন বলেন, ‘আমরা চাই না শাকসু নির্বাচন আবার কোনো রাজনৈতিক টানাপড়েনের শিকার হোক। কমিশনের উচিত শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে সবাই নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে।’
ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক মো. এছাক মিয়া বলেন, প্রশাসন এমন কর্মঠ ও যোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজছে, যাদের ওপর সব ছাত্র সংগঠনের আস্থা থাকবে এবং যারা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেবেন না। শিগগিরই উপাচার্য কমিশনের নাম ঘোষণা করবেন।
উল্লেখ্য, শাবিপ্রবিতে সর্বশেষ শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এর আগে ১৯৯৩ সাল থেকে আরও তিনবার নির্বাচন হয়। এর পর থেকে ২৮ বছর ধরে শাকসু কার্যত অচল রয়েছে।
