পটুয়াখালীর মহিপুরে সংরক্ষিত ফাতরা বনসহ বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে শত শত গাছ কেটে আনা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, এসব গাছ আলিপুর বাজারের পশ্চিম পাশে কলেস্টার সংলগ্ন এলাকায় পাওয়া গেছে। নারী শ্রমিকরা প্রতিটি গাছে লোহা পুঁতে শুঁটকি শুকানোর কাঠামো তৈরি করছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এসব গাছ শুঁটকি ব্যবসায়ী নূর হোসেন গাজী কেটে এনেছেন। তবে নূর হোসেন গাজী দাবি করেছেন, গাছগুলো আমার নয়। আমাকে কেন এর সঙ্গে জড়ানো হলো জানি না।
পরিবেশবিদদের মতে, সংরক্ষিত বন উজার হলে এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। মাটি ক্ষয় হবে, যা কৃষি ও স্থানীয় আবাসস্থলকে ঝুঁকিতে ফেলবে। বন্যপ্রাণী তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থান হারাবে এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। এ ছাড়া নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়বে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, অসাধু চক্র সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে উজাড় করছে। কেউ শুঁটকি শুকানোর ব্যাসার বানাচ্ছে, কেউ ঘরের কাঠ কেটে নিচ্ছে, আবার কেউ বিক্রি করছে লাকড়ি হিসেবে। এটি শুধু আইন ভঙ্গ নয়, পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং জীববৈচিত্র্যের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে উপকূলের অস্তিত্ব চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশের বন আইন, ১৯৭৪ এবং সংশোধিত বন রক্ষা বিধি ২০১৮ অনুযায়ী সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা, উজার করা বা বিক্রি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্টরা জরিমানা এবং জেলাদণ্ডের আওতায় আনা যেতে পারে।
মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে খাজুরা বিট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন। তবে খাজুরা বিট কর্মকর্তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
