বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে এবং তারা নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি শাহ আলম। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে দেশ তালেবানি রাষ্ট্রের পথে এগোতে পারে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সিপিবির ত্রয়োদশ কংগ্রেসের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন। শাহ আলম বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও রাষ্ট্রক্ষমতার শ্রেণি চরিত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বা বিপ্লব ঘটেনি। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত নির্বাচিত সরকার গঠন অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে সাম্প্রদায়িক ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সবচেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছে।’ তার মতে, ইসলামের নামে বাংলাদেশে র্যাডিক্যাল ইসলামের উত্থান ঘটেছে, যা আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।
দলটির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘দেশে দক্ষিণপন্থি, উগ্র প্রতিক্রিয়াশীল ও সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটছে। আধিপত্যবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তারে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের কিছু উপদেষ্টা এবং সরকারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য হলেও কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তা বাধাগ্রস্ত করছে। তিনি আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের মূল দায়িত্ব ছিল দ্রুততম সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা। কিন্তু কালক্ষেপণ করে এবং সংবিধান পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে নতুন সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘বিলম্বের কারণে কোনো সংকট তৈরি হলে তার দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে।’
এর আগে জাতীয় সংগীত ও আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কংগ্রেসের উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে বিএমএ মিলনায়তনে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হয়। কংগ্রেস চলবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান আবু সাইদ। কংগ্রেসে জেলা সম্মেলন থেকে নির্বাচিত ৫২৫ জন প্রতিনিধি এবং ২৬ জন পর্যবেক্ষক অংশ নিয়েছেন। এছাড়া, ৭০ বছরের বেশি বয়সী অথবা ৩০ বছর ধরে সিপিবির কর্মকাণ্ডে যুক্ত প্রবীণ নেতাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের কংগ্রেসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে রণকৌশল প্রণয়ন, আগামী দিনের সংগ্রামমূলক কর্মকাণ্ড নির্ধারণ এবং কর্মসূচি তৈরি করা হবে। এর অংশ হিসেবে তিন মাস আগে সব শাখা, থানা, উপজেলা ও জেলায় নীতি-প্রস্তাব ও কর্মসূচির খসড়া পাঠানো হয়েছিল। সেগুলোর ওপর আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে কংগ্রেসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
