আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য খোলা
থাকবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ব পর্যটন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গত; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৯ মাসের জন্য বন্ধ হয় সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ। যার প্রভাব পড়ে দ্বীপের পর্যটন খাতে। বন্ধ থাকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। সেন্টমার্টিনে যাতায়াত বন্ধ হওয়ায় সুনসান নীরবতা জেটিঘাটে। জাহাজে বেকার সময় পার করছেন কর্মচারীরা।
নাসরিন জাহান বলেন, প্রতিদিন ২ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিনে যেতে পারবে। তবে প্রথম দুই মাস দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে হবে। শুধু জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপটিতে রাতযাপন করতে পারবেন পর্যটকরা।
বিমান ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পর্যটন শিল্পের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সামগ্রিকভাবে উন্নতি হলে পর্যটন শিল্পও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল কবে চালু হবে সেটি এখনো ঠিক হয়নি। আমাদের প্রচেষ্টার শেষ নেই। এখানে ২১ হাজার কোটি টাকা সরকার বিনিয়োগ করেছে। যত দ্রুত সম্ভব চালু করতে কাজ করে যাচ্ছি।
এর আগে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটক ও অনুমোদিত জাহাজ নিয়ন্ত্রণে যৌথ কমিটি গঠন করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, সেন্টমার্টিনে যেতে হলে পর্যটকদের নিবন্ধনসহ নানা বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। যদিও এরপর নয় মাস ভ্রমণের জন্য সেন্টমার্টিনে যাওয়া যাবে না বলে মর্মে সিদ্ধান্ত দেয় অন্তর্র্বর্তী সরকার। সে সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতেই ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, সেন্টমার্টিনকে স্থানীয় জনগণকেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাঁচানোর প্রয়াসকে ভিত্তিহীন কথা দিয়ে ভিন্নপথে পরচালিত করার সুযোগ নেই, সেন্টমার্টিন দ্বীপ বাঁচাতে বন্ধ রাখা হচ্ছে। সরকার নতুন কিছু নয় বরং বহু পুরনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে।
