উমা সংঘের উদ্যোগে মুষ্টির চালে দুর্গাপূজা

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:০৩ পিএম

যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা অর্থাৎ হে দেবী তুমি সর্বভূতে শক্তি রূপে বিরাজ করছো। এই মন্ত্রের মাহাত্ম্য ধারণ করে শেরপুরের সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া একদল নারী মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছেন। 

স্থানীয়রা জানায়, শেরপুর পৌর এলাকার সাতানিপাড়া মহল্লায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও দলিত সম্প্রদায়ের হতদরিদ্র মানুষের বসবাস। তারা সবাই  দিন আনে দিন খায়। তারপরেও ওই সম্প্রদায়ের নারীরা এক জোট হয়ে আলাদাভাবে দুর্গাপূজা পালনে সিদ্ধান্ত নেয়। সে মোতাবেক গত বছর প্রথম  ‘উমা সংঘ’ নামে একটি ক্লাব গঠন করে ছোট পরিসরে দুর্গাপূজার আয়োজন করে। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও তারা একটু জাঁকজমক ভাবে পূজার আয়োজন করেছে।

সংগঠনের সংশ্লিষ্টরা জানায়, উমা সংঘের ২৩ সদস্যদের কমিটির সবাই নারী। তারা নিজেদের মধ্যে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই মহল্লায় বসবাসরত ৪২ ঘর থেকে প্রতিদিন মুষ্টির চাল সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ওই চাল বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ টাকা করে সঞ্চয় করেন। এরপর বছর শেষে মোট ৬০ হাজার টাকা নিয়ে তারা পূজা উদযাপনের উদ্যোগ নেয়। পূজা সম্পন্ন করতে কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়। তাই তারা তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী ও শহরের অর্থশালীদের দ্বারস্থ হয়ে পূজার ব্যয়ভার সংগ্রহ করে।

২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে পূজার কাজ শুরু হয়েছে। উমার সংঘের নারীদের পাশাপাশি স্থানীয় পুরুষরাও তাদেরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বলে জানান কমিটির নেতারা।

পূজা আয়োজন করা একটি চ্যালেঞ্জের কাজ তাই নারীদের এই আয়োজনে পাড়ার তরুণ-তরুণীরাও নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তারা।

উমা সংঘের সভাপতি মুক্তি বিশ্বাস বলেন, মা দূর্গা হচ্ছে নারী শক্তির প্রতীক তাই আমরা নারীশক্তি জাগরণের জন্য এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে সেজন্য আমরা এই আয়োজন করেছি। যদিও দুর্গাপূজার ব্যয়ভার অনেক বেশি তারপরেও আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের পাশাপাশি আমাদের সমাজের পুরুষদেরও সহযোগিতার কারণে আমরা এবারও দুর্গাপূজার আয়োজন করেতে পেরেছি।

উমা সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুমিতা বিশ্বাস বলেন, আমাদের পাড়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী-দলিত সম্প্রদায়ের পাশাপাশি ব্রাহ্মণ ও সাহা গোত্রের মানুষ বসবাস করে। তারাও আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা করেছে। এবার সফলভাবে পূজা অর্চনা শেষ করতে পারলে আগামীতেও আরও ভালোভাবে উদযাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি জিতেন্দ্র মজুমদার বলেন, উমা সংঘের পূজার আয়োজনটির বিষয়ে আমরা জেনেছি এবং সরেজমিনে দেখেছি। তাদের জন্য পূজামণ্ডপের বরাদ্দ একটু বেশি রেখেছি। এছাড়া আমাদের ভলেন্টিয়ার ও প্রশাসনের মাধ্যমে তাদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনের ব্যবস্থাও নিয়েছি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত