চাঁদপুর ২ আসন বিএনপিতে প্রার্থীর ছড়াছড়ি, জামায়াতের একক প্রার্থী 

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:০৪ পিএম

গেল বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উজ্জীবিত হয়ে উঠে চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর -মতলব দক্ষিণ) আসনের রাজনীতির মাঠ। বিগত ১৭ বছর ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি দেওয়া হলে চলেছে হামলা-মামলা। এই আসনের অতীত রাজনৈতিক চর্চা খুবই হিংসাত্মক। বহু মামলায় জর্জরিত ছিলেন বিএনপিসহ বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বাহিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের অন্য প্রার্থীরা। তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার পর এখন সমান তালে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত গন অধিকার পরিষদসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা। 

জেলার সীমান্ত উপজেলা মতলবে রাজনৈতিক অধিকাংশ নেতাদের অবস্থান রাজধানীতে। সাধারণ মানুষ সাংসদের কাছে এসে সমস্যার কথা বলা ছিল খুবই কঠিন বাস্তবতা। কারণ এই আসনে পতিত সরকারের সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া নির্বাচনী এলাকায় দলকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। তাদের অনুসারী কিছু নেতাই সকল সিদ্ধান্তে এগিয়ে থাকতেন। যার ফলে নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 

এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম নুরুল হুদার ছেলে জেলা বিএনপি'র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা, বিএনপি'র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জালাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগর উত্তর (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ) ড্যাব এর সভাপতি সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, মতলব দক্ষিণের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এম এম শুক্কুর পাটোয়ারী, বাংলাদেশ মেডিকেলের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ডা. আনিসুল আউয়াল পিএইচডি। 
 
জামায়েতী ইসলামির একক প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়েতী ইসলামিসহ সেক্রেটারি ড. আব্দুল মুবিন।
 
এদিকে গন অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন সুমন ও গনঅধিকার পরিষদের চাঁদপুর জেলার যুগ্ন আহ্বায়ক বিএম গোলাপ হোসেন ও উঠান বৈঠক গণসংযোগ করছেন নির্বাচনী এলাকায়। 

এককভাবে মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. আব্দুল মবিন এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুফতি মানসুর আহমদ সাকি।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৩ জন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৩ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩২ হাজার ২১৮জন নারী এবং ২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। জেলার গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি গঠন হওয়ার পর থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী শামসুল হক, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির মো. নুরুল হুদা, ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থী মো. নুরুল হুদা, ১৯৯৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ২০০১ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দলের প্রার্থী মো. নুরুল হুদা, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ২০১৪ সালে নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল আমিন রুহুল, সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ডক্টর জালাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সেটি দল ঠিক করবে। পতিত হাসিনা সরকারের সময়ে আমি দলের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলাম দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে ছিলাম। এখন দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে ৩১ দফা নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি উঠান বৈঠক করছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচিত হলে মতলবের উন্নয়নে সকলকে নিয়ে কাজ করতে চাই।  

জেলা বিএনপির  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা বলেন, আমি বিগত ফেসিস্ট সরকারের আমলে হামলা মামলার শিকার হয়েছি, জনগণের পাশে ছিলাম এখন জনাব তারেক রহমান রাষ্ট্র মেরামতের যে ৩১ দফা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সম্ভব একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার। সেই ৩১ দফা নিয়ে আমি মতলবের জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, জনগণকে বুঝানোর চেষ্টা করছি দেশ নিয়ে জনাব তারেক রহমানের ভাবনা ও জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এবং আমি নির্বাচিত হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমৃদ্ধ মতলব গড়ে তুলবো। 

মতলব দক্ষিণের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শুক্কুর পাটোয়ারী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল আন্দোলনে আমি সক্রিয় ছিলাম। জনগণ চাচ্ছে একজন সৎ, শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ। আমাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ মতলব গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা মহানগর উত্তর ড্যাব এর সভাপতি সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম বলেন, আমি ক্লাস নাইন থেকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে  রাজনীতির পথচলা শুরু হয়, সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিশেষ করে বিগত ১৬-১৭ বছর ফেসিস্ট সরকার আমলে দলীয় সকল আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম, এখন দেশ নায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে জনগণের ভালোবাসা অর্জনে জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি আমার কোন লোভ নেই, আমার একটাই লাভ মানুষের ভালোবাসা। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচিত হয়ে মতলবের মানুষের সেবা করতে চাই।  

জামায়েত ইসলামের একক প্রার্থী কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াত ইসলামের সহ সেক্রেটারি ড. আব্দুল মুবিন নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করার জন্য কাজ করছে। কুরআনের আইন বাস্তবায়ন হলে সমাজে সু-শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। মানুষ তাদের অধিকার ফিরে পাবে।

তিনি বলেন, সংগঠন থেকে আমাকে চাঁদপুর ২ আসনের প্রার্থী মনোনীত করেছে। আমি নির্বাচনী এলাকার জনগণের কাছে সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলছি। আমি চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সব সময়ই মানুষকে কুরআনের পথে আহ্বান করছি। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হলে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো ইনশাল্লাহ।

"বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ" কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি জনাব মো. ইসমাইল হোসেন সুমন বলেন- (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) শুধু দুটি উপজেলার নাম নয়, এটি আমার অস্তিত্বের ঠিকানা। এখানেই আমার জন্ম, আমার বেড়ে ওঠা। আমার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং শৈশবের বন্ধুরা, আমরা বিগত ফেসিস্ট সরকারের আমলে মানুষের অধিকার আদায়ের  লক্ষ্যে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে মানুষের সেবা করতে চাই।  

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মানসুর আহমদ সাকী বলেন মতলব উত্তর ও দক্ষিণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পল্লী উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু পরিবেশ, পরিকল্পিত নগরায়ন ও মাদকমুক্ত মতলব গড়ার জন্য আমি বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং তা বাস্তবায়নের কাজ করে যাচ্ছি, প্রাথমিকভাবে আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, স্বাস্থ্য সেবাকে আরও উন্নত করতে আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং পল্লী উন্নয়নের জন্য স্থানীয় কৃষকদের জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের দলের নিবন্ধন ও প্রতীক পেলে প্রার্থী ঠিক করা হবে। চাঁদপুরের কোনো আসনেই এখন পর্যন্ত কেউ কাজ করছেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত