রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা বগুড়ার দুর্জয় ক্লাবের। শহরের চেলোপাড়া এলাকায় দুর্জয় ক্লাবের এই দুর্গা প্রতিমার উচ্চতা ১৬ ফুট। যা দেখতে ছোট থেকে বড় সকলেই ভিড় করছেন মণ্ডপে। এদিকে জেলায় ৬৮৬টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের মধ্যে ১০৪টি মণ্ডপ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা পুলিশ। এসব মণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ, র্যাব, আনসার, সেনাবাহিনীসহ একাধিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বগুড়ার শারদীয় উৎসব দেবীর বোধনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে রবিবার। এদিকে বগুড়া শহরের চেলোপাড়াস্থ দুর্জয় ক্লাবে স্থাপন করা হয়েছে ১৬ ফুট উচ্চতার দুর্গা প্রতিমা। যা শুধু বগুড়া জেলায় নয় রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা বলে দাবি করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছর বগুড়ার ১২ উপজেলায় ৬৭৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার বেড়ে হয়েছে ৬৮৬টি। বগুড়া সদরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১১৭টি, শাজাহানপুরে ৪৬টি, শিবগঞ্জে ৬২টি, গাবতলীতে ৭৩টি, সোনাতলা ৪৯টি, আদমদীঘিতে ৬৫টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি, কাহালুতে ৩৩টি, শেরপুরে ৯১টি, ধুনটে ৩৫টি, সারিয়াকান্দিতে ২৩টি এবং নন্দীগ্রামে ৪৭টি মণ্ডপে। নিরাপত্তার দিক থেকে মণ্ডপগুলোকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে— অতি গুরুত্বপূর্ণ (অধিক ঝুঁকিপূর্ণ) গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ও সাধারণ। এর মধ্যে ১০৪টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ৩২৯টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৬৩টি সাধারণ।
বগুড়া পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও দুর্জয় ক্লাবের সভাপতি পরিমল প্রসাদ রাজ বলেন, শারদীয় এই উৎসবে আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি ১৬ ফুট উচ্চতার দেবী দুর্গার প্রতিমা শুধু দুর্জয় ক্লাবে রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের আর কোথাও নেই এত উচ্চতার দেবী দুর্গার প্রতিমা। তাই এটি রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বড় দুর্গা প্রতিমা। কলকাতার সল্টলেকের একটি দুর্গা প্রতিমা তৈরি ও পূজা মণ্ডপ অনুসরণ করে সাজানো হয়েছে।
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল চন্দ্র দাস বলেন, জেলায় এ বছর ৬৮৬টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি মন্দিরে কমিটির পক্ষ থেকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়া সিসি ক্যামেরা লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, জেলায় পূজামণ্ডপগুলোতে থাকবে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কেউ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিপুল সংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তার জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
