আদালতের রায়ে জমি ফেরত, উচ্ছেদে বাধা

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৩ পিএম

রাজবাড়ীতে ৪৩ বছর মামলা চালানোর পর আদালতের রায়ে জমি ফেরত পেয়েছে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর)  সকালে প্রশাসনের সহযোগিতায় বেদখল হওয়া জমিতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে বাধার মুখে দুপুরে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দেন তারা।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে আনোয়ার হোসেন গং সরকারকে বিবাদী করে তৎকালীন গোয়ালন্দের মুনসেফী আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। পরে ১৯৯৪ সালে তা খারিজ হয়। পরবর্তীতে একই বছরে তিনি মামলার আপিল করেন যা আদালত খারিজ করেন। 

পরবর্তীতে আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন। হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল ডিসচার্জ করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে লীভ টু আপিল করেন যা ২০০৯ সালে আবারও খারিজ হয়। 

সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আনোয়ার হোসেন গংকে বিবাদী করে খাস দখলের উচ্ছেদের জন্য রাজবাড়ী জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের মে মাসে আদালত প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় প্রদান করেন। তারই প্রেক্ষিতে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্ত্বর এলাকা পার হলেই রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে একাি উত্তর পাশে একটি নির্মানাধীন ভবন। 

পাশেই শহীদ মিনার। শহীদ মিনারের পেছনেই একটি খাল। খালের পর থেকেই আনোয়ার হোসেন গং এর বাড়ি। প্রশাসনের পক্ষ  থেকে জমি মেপে খুটি গাড়া হয়েছে। 

এক্সাভেটর ভেকু মেশিন দিয়ে আনোয়ার হোসেনের বাড়ির সীমান প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। এসময় আনোয়ার হোসেনের পরিবারের নারী সদস্যরা উচ্ছেদ অভিযানে বাধা প্রদান করছেন। এক পর্যায়ে তাদের বাধার মুখে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আনোয়ার হোসেনের পরিবারে বাবু নামে একজন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত এই বিদ্যালয়ের সাথে আমাদের মামলা চলছিল। 

এই মামলা বিদ্যালয়ের পক্ষে যায়। আমরা কয়েকটি ছোট ছোট স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছি। একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। সেখানে কয়েকটি পরিবার ভাড়া থাকে। 

আমাদের একটু সময় প্রয়োজন রাজবাড়ী জজ কোর্টের আইনজীবী খাইরুলজ্জামান সোহেল বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে রিটপ্রাপ্ত হয়ে আমরা এই জমি বুঝিয়ে দিতে এসেছি। 

কোর্ট আগেই তাদের দখল ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তারা দেয়নি। তার দ্বিতল ভবনের এক পাশে ১২ ফুট ইঞ্চি  ও এক পাশে শূণ্য। এটা সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মুফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের ২৩ শতাংশ জমি বেদখল হয়েছিল। দীর্ঘ সময়ের মামলা মোকাদ্দমার পর আজ আমরা এই জমি ফেরত  পেয়েছি। তবে জমির সবটুকু দখল মুক্ত করা যায়নি। পূজার পরে আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৮৯২ সালে গিরিজা শংকর মজুমদার গোয়ালন্দ মডেল হাইস্কুল নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এটি রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামে পরিচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত