উপকূলে পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট বসাবে পিকেএসএফ

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৪৯ এএম

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে খাবার পানির সংকট নিরসনে ৫ শতাধিক সৌরবিদ্যুৎ-চালিত ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট (লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট) স্থাপন করবে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতি ব্যবহার করে সাতক্ষীরা, খুলনা এবং বাগেরহাটের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে।

পিকেএসএফ ইতিমধ্যে উপকূলীয় জেলাগুলোয় ৮৩টি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে ‘নিরাপদ পানি প্রকল্প’ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

নিরাপদ পানি প্রকল্পের এ সূচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। এতে বক্তব্য দেন পিকেএসএফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসীম উদ্দিন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ, মুহম্মদ হাসান খালেদ এবং মহাব্যবস্থাপক ড. এ কে এম নুরুজ্জামান।   

অ্যাডাপটেশন ফান্ডের অর্থায়নে নিরাপদ পানি প্রকল্পের আওতায় আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রকল্প এলাকায় পানীয় জলের প্রাপ্যতার হার ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় লবণাক্ত পানির মান পরীক্ষা করা হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সরাসরি সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন। অতিদরিদ্র ও বননির্ভর পরিবার এবং প্রান্তিক গ্রামীণ সম্প্রদায়ের সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠীগুলোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সহজলভ্য উৎসের অভাবে মানুষ বাধ্য হয়ে লবণাক্ত পানি ব্যবহার করছে, যা তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া, নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এ সমস্যা মোকাবিলায় পিকেএসএফ স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে ব্যবসায় উদ্যোগ মডেল অনুসরণ করে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করছে। পিকেএসএফের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জসীম উদ্দিন বলেন, ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই পিকেএসএফ উপকূলীয় জেলাগুলোয় সুপেয় পানি সরবরাহ করে আসছে।

ড. ফজলে রাব্বি ছাদেক আহমাদ বলেন, পানির লবণাক্ততা দূর করার জন্য একটি কার্যকর প্রযুক্তি হলো রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট। এ প্ল্যান্টের মাধ্যমে পানির মধ্যে থাকা লবণ ও অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ দূর করে পানিকে পানের উপযোগী করে তোলা হয়।

রিভার্স অসমোসিস প্রক্রিয়ায় লবণাক্ত পানিকে একটি আধা-ভেদ্য মধ্য দিয়ে উচ্চচাপে প্রবাহিত করা হয়। এ ঝিল্লিটি শুধু পানির অণুগুলো যেতে দেয়, কিন্তু লবণের কণা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থ আটকে রাখে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত