একসময় প্রবল স্রোতধারা বইত ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন, শুক, সেনুয়া নদীতে। সেই নদীগুলো আজ পরিণত হয়েছে মৃতপ্রায় খালে। খননের অভাব, দখল আর অব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে এ অঞ্চলের নদীগুলো। নদীর কোথাও হাঁটুজল, কোথাও আবার শুকনো জমি। নদী ভরাট করে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও মানুষের জীবিকা।
সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জেলার নদ-নদীর তালিকা হালনাগাদ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাদের অনুসন্ধানে দেখা যায় গত ৫০ বছরে জেলার অন্তত ১৩ নদী মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে গেছে। এসব নদী হলো রশিয়া, হাতুড়ি, জলই, পুনর্ভবা, মরা গোগরা, চাড়াল বান্দ, নহনা, আমান-ধামান, কাহালাই, বাগমারা, সারডুবি, মরাটাঙ্গন ও ভক্তি। একসময় এসব নদীতে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত, নৌকায় চলাচল করত। শুকিয়ে যাওয়া এসব নদীতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে।
সদর উপজেলার নারগুন গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুল করিম বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবার মুখে শুনেছি এইসব নদীতে বড় বড় লঞ্চ চলত। জেলেরা মাছ ধরে সংসার চালাত। এখন শুধু ধুলো উড়ছে।’
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর বুক ভরাট হয়ে জমিতে চাষাবাদ চলছে। কোথাও সামান্য পানি রয়েছে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়েছে জেলেদের জীবিকা, কৃষকরাও পড়ছেন সেচ সংকটে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁও জেলায় ৩৬টি নদী ও খালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৬ দশমিক ৩৯৬ একর নদীর জমি ইতিমধ্যে দখল হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর জমি দখল করে প্রভাবশালী মহল ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও মিল-কারখানা গড়ে তুলছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সেনুয়া এলাকার গৃহবধূ ষাটোর্ধ্ব ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আগে নদীর পানি দিয়েই রান্না করতাম, গৃহস্থালির কাজ করতাম। এখন নদী দখল হয়ে গেছে। পানিও আর নেই আগের মতো।’
ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম যাকারিয়া বলেন, ‘নদী রক্ষায় খনন অত্যন্ত জরুরি। আমরা ইতিমধ্যে খননের জন্য তালিকা তৈরি করেছি। পাশাপাশি দখলমুক্ত করতে অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে।’
