তেহরান থেকে রাজধানী সরানোর প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ১২:২৮ এএম

তেহরান থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে রাজধানী সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তেহরানে বিস্তার সীমা অতিক্রম ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এ ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে মনে করছেন তিনি। পারস্য উপসাগরের তীরে হরমোজগান প্রদেশে সফরে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, গত বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে তিনি রাজধানী সরানোর এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি স্বীকার করেন, তার এই প্রস্তাব ব্যাপক সমালোচনার শিকার হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের যুক্তি হলো, সংকট এত গভীর যে, ইরানের রাজধানী সরিয়ে নেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, এই অঞ্চল পারস্য উপসাগরের তীরে, তাই এখানে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানোর ভালো সুযোগ আছে। তিনি বলেন, যদি আমরা এই জায়গার সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগাই, তাহলে এটি একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত এলাকা হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, দেশ এখন যেসব সমস্যার মধ্যে আছে, সেগুলো মোকাবিলার জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র পারস্য উপসাগর এলাকার দিকে সরাতে হবে। তেহরান, কারাজ ও কাজভিনে এখন ভয়াবহ পানি সংকট চলছে, আর এই সমস্যা সহজে সমাধান করা সম্ভব না।

তেহরান শহরে এখন এক কোটির বেশি মানুষ বাস করে। তারা ইরানের মোট পানির প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করে। আগেও কয়েকজন প্রেসিডেন্ট রাজধানী সরানোর কথা বলেছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও একটি পরিকল্পনা করেছিলেন। পেজেশকিয়ান বলেন, বাঁধে পানি কমে যাচ্ছে, অনেক কূপ শুকিয়ে গেছে, আর অন্য জায়গা থেকে পানি আনার খরচও অনেক বেশি। এসব দেখে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের এখন দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। যদি এখান থেকে তেহরানে পানি নিতে হয়, তাহলে প্রতি ঘনমিটারের খরচ হবে ৪ ইউরো। তেহরানের পানির ৭০ শতাংশ আসে বাঁধ থেকে, আর ৩০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানি থেকে। কিন্তু এখন কম পরিমাণে বৃষ্টি আর বেশি গরমের কারণে বাঁধে পানি কমেছে। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত