খামারিদের মানববন্ধন

৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় প্রকল্পের ৫ কোটি টাকার মাছ লুট

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩৯ পিএম

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরখোন্দকার ও চর রামনারায়ণ মৌজার মৎস্য প্রকল্পের খামারিদের কাছে দাবিকৃত ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে প্রকল্পের বাঁধ কেটে খামারের মাছ লুট করেছে সন্ত্রাসীরা। রবিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে মৎস্য প্রকল্পের ভুক্তভোগী খামারি ও মালিকরা মানববন্ধন ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

সোনাগাজীর দক্ষিণ চরখন্দকার মৎস্য প্রকল্প মালিক সমিতি সভাপতি শেখ রাসেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে ভুক্তভোগী খামারি মোমিন হোসাইন বলেন, ১৫ দিন আগে থেকে সন্ত্রাসীরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত মঙ্গলবার রাতের আঁধারে মৎস্য প্রকল্পের কর্মচারী ও গার্ডকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৭০ একর জায়গায় চাষকৃত প্রকল্পের ৫ কোটি টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় স্কেভেটর দিয়ে প্রকল্পের পার কেটে মাছগুলো নদীতে ও পার্শবর্তী খামারে ছেড়ে দেয়। এতে খামারিদের কোটি টাকার বেশী মাছের ক্ষতি হয়। মৎস্য প্রকল্প লুট করে ও বাঁধ কেটে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন স্কেভেটর ড্রাইভার অপু ও তার সহযোগী সোহেলকে আটক করে সোনাগাজী মডেল থানায় হস্তান্তর করে। পুলিশ তাদের ১৫৪ ধারায় মামলা করে আদালতে পাঠায়।

মৎস্য প্রকল্প মালিক সমিতি সভাপতি শেখ রাসেল বলেন, ন্যায়বিচার চেয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় পৃথক চারটি অভিযোগ দায়ের করেছি। থানার পুলিশ আমাদের অভিযোগগুলো আমলে না নিয়ে শালিশি বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

মানববন্ধনে আগত খামারিরা বলেন, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সোনাগাজীর দক্ষিণ অঞ্জল এলাকার ৪৫ জন খামারির সব খামারের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যায়। আমরা শত শত কোটি টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হই। চরম অর্থ সংকটের মধ্যেও চলতি বছর ফের ব্যাংক ঋণ ও ধার-দেনা করে মাছ চাষ শুরু করি। গত বছরের ৫ আগস্টের পর একের পর এক চাঁদা দাবি, হুমকি-ধমকি, জবর দখলের চেষ্টাসহ নানান বিপদ মাথায় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি।

তারা জানান, প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে সোনাগাজীর দক্ষিণ অঞ্চলের কয়েকজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু, মৌসুমী রাজনীতিবিদ ও ফ্যাসিস্ট সরকারের দোষররা কয়েকটি প্রকল্প অবৈধভাবে জবরদখলের পাঁয়তারা করছে।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, এসব ঘটনায় একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। মৎস্য শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় মানুষকে নিয়ে আইনগত সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত