বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রথমবারের মতো সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন। সোমবার রাতে হোটেল সোনারগাঁওয়ের ‘পদ্মা’ কনফারেন্স হলে তিনি উপস্থিত হন সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন, নাজমুল আবেদিন ফাহিম এবং খালেদ মাসুদ পাইলটকে সঙ্গে নিয়ে।
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরপরই সভাপতি ও সহ-সভাপতির নাম নির্ধারণ করে তারা সম্মিলিতভাবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বুলবুল বোর্ড প্রধান হন। ভাগ্যের খেলায় এখন দু’জনই বিসিবির শীর্ষ পদে— বুলবুল সভাপতি, ফারুক সহ-সভাপতি। খেলোয়াড়ি জীবনে যেখানে ফারুক ছিলেন বুলবুলের অধিনায়ক, এখন তারা প্রশাসনিকভাবে একসঙ্গে কাজ করবেন আগামী চার বছর।
দুজনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই বুলবুল হাসিমুখে জানান, ‘আমাদের সম্পর্ক খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ। তার প্রমাণ— সভাপতি পদে আমার প্রস্তাবক ছিলেন ফারুক ভাই, আর সহ-সভাপতি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করি আমি নিজেই। আমি বিশ্বাস করি, আমরা একসঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।’
একসময় আইসিসির ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, ক্রিকেটের উন্নয়নের প্রতি ভালোবাসায় তিনি এখন পুরো সময় দিতে চান বিসিবিকে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বুলবুল বলেন, ‘ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ফিরে এসেছি। ভেবেছিলাম স্বল্প সময়ের জন্য কাজ করব, কিন্তু ট্রিপল সেঞ্চুরি প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগে সাফল্য দেখে আমি বুঝেছি, আরও অনেক কিছু করা সম্ভব। তাই থেকেই গেলাম।’
বিসিবি সভাপতির পদটি অনারারি (বিনা পারিশ্রমিকের) হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পদে কখনোই পারিশ্রমিক ছিল না, এখনো নেই। আমি এটা দায়িত্ব হিসেবে দেখছি, চাকরি হিসেবে নয়। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়াই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’
যারা নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বয়কট করেছেন, তাদের প্রসঙ্গেও বুলবুলের বক্তব্য ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট সবার। যারা অংশ নেননি, প্রয়োজন হলে তাদের সাথেও যোগাযোগ করা হবে। সহ-সভাপতি ফারুক ভাইও বলেছেন, আমাদের লক্ষ্য একটাই— দেশের ক্রিকেটকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।’
