শিশুর হাম হলে কখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৭ এএম

হাম ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। রোগটি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের লালার কণার মাধ্যমেও বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তৈরি হতে পারে নানা জটিলতা। সাধারণত শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে বড়রাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। সুস্থ এবং হামের টিকা গ্রহণকারী শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক জটিলতা তৈরি না করলেও পুষ্টিহীন শিশুরা হামে আক্রান্ত হলে এর পরিণাম হতে পারে ভয়াবহ, এমনকি এর ফলে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

কখন ঝুঁকি বাড়ে

  শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া না থাকলে এই রোগের ঝুঁকি এবং জটিলতা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

 শিশুদের যদি ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকে।

 বাচ্চা যদি অপুষ্টির শিকার হয়।

 রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে।

 ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

 হাম আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে।

হামের উপসর্গ

 প্রথমে তিন থেকে চার দিন তীব্র জ¦র থাকে,

 সঙ্গে সর্দি-কাশি,

 চোখ লাল হয়ে যায় বা চোখ দিয়ে পানি পড়ে,

 গায়ে লালচে দানাদার র‌্যাশ দেখা দেয়, যা কানের পেছন দিক থেকে শুরু করে মুখ, পেট, পিঠ, হাত-পা ও সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

 জিহ্বার ওপর ঘা হতে পারে।

হামের সংক্রমণ কাল

গায়ে র‌্যাশ আসার চার দিন আগ থেকে র‌্যাশ উঠার চারদিন পর পর্যন্ত সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসা

 শিশুকে আলাদা রাখুন এবং বিশ্রাম দিন। তাকে স্কুলে পাঠাবেন না।  প্রচুর পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে দিন।

 জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল দিন।  র‌্যাশ চুলকালে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দিন।

 ভিটামিন-এ  ক্যাপসুল পরপর ২ দিন খাওয়ান।  হামের সঙ্গে অন্য কোনো ইনফেকশন থাকলে যেমন নিউমোনিয়া, কানে বা রক্তে ইনফেকশন থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে।

হাম সাধারণত সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে এ রোগ প্রতিরোধে সচেতন থাকা জরুরি এবং অবশ্যই সময়মতো টিকা নিতে হবে। হাম হয়েছে সন্দেহ করলে ভয় না পেয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের স্মরণাপন্ন হোন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত