প্রায় অবিনশ্বর প্রাণী টার্টিগ্রেড

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

প্রাণিজগতের বিস্ময়কর প্রাণী টার্টিগ্রেড। এই আণুবীক্ষণিক প্রাণীটি মহাকাশের শূন্যস্থান এবং উচ্চ বিকিরণের মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে। নিষ্ক্রিয় অবস্থায় এরা পানি ও খাবার ছাড়া দশকের পর দশক কাটায়। এক মিলিমিটারের কম দৈর্ঘ্যরে অতি ক্ষুদ্র, আটপেয়ে প্রাণী টার্টিগ্রেড। চলার ভঙ্গি ভল্লুকের মতো এবং পানিতে বাস করতে পারায় অনেকে এদের ‘ওয়াটার বিয়ার’ বা ‘জল ভল্লুক’ বলে। তাদের মুখমণ্ডল শূকর ছানার মতো। এরা শ্যাওলা, ছোট উদ্ভিদ রস এবং অণুজীব খেয়ে বাঁচে। প্রতিকূল পরিবেশে শরীরের সব পানি বের করে বিপাকক্রিয়া থামিয়ে মৃত অবস্থায় চলে যায়। এরপর অনুকূল পরিবেশে ফের সতেজ হয়। ১৭৭৩ সালে জার্মান প্রাণীবিদ জোহান অগাস্ট এফ্রাইম গোয়েজ প্রথম বর্ণনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ইতালীয় জীববিজ্ঞানী লাজারো স্প্যালানজিন নাম দেন ‘টার্টিগ্রেড’। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং হার্ভার্ড-স্মিথসোনিয়ান সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের নতুন গবেষণা অনুসারে, সুপারনোভা এবং গামা রশ্মির বিস্ফোরণের মতো যেসব মহাজাগতিক বিপর্যয়ে মানবজাতি নিশ্চিহ্ন হতে পারে,  সেসব বাধা উৎরে যাবে টার্টিগ্রেড। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কমপক্ষে ১০০০ কোটি বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এরা। ‘বিশ্বের প্রায় অবিনশ্বর’ এ প্রাণীর চার  জোড়া পা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ্যা অধ্যাপক আব্রাহাম লোয়েব বলেন, ‘বাসযোগ্য গ্রহ থেকে সব ধরনের প্রাণ নির্মূল করা কঠিন। একটি মহাকাশযানে শীতঘুমে পাঠানো হয়েছিল টার্টিগ্রেডদের। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, চাঁদের বুকে তারা এতদিনে জেগে উঠেছে।’ বিজ্ঞানীরা মনে করেন ‘যত দিন না সূর্য মরছে, ততদিন বেঁচে থাকবে টার্টিগ্রেড।’   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত