ইয়ামালকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে স্পেন ও বার্সেলোনা?

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৫৬ এএম

২০২৫-২৬ মৌসুমের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিরতিতে অবশেষে বিশ্রাম মিলেছে লামিন ইয়ামালের। কিন্তু বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের জন্য খবরটা পুরোপুরি সুখকর নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে গ্রোইন ইনজুরিতে পড়েছেন ইয়ামাল। যে কারণে এখন তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনজুরিটি কেবল দুর্ভাগ্য নয়, বরং অতিরিক্ত খেলার চাপের ফলেও হতে পারে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই ইয়ামাল খেলেছেন অবিশ্বাস্য সংখ্যক ম্যাচ। বার্সা ও স্পেনের জার্সিতে ১৩০টি সিনিয়র ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। সময়ের হিসাবে ৮,১৫৮ মিনিট মাঠে কাটিয়েছেন তিনি। এই অল্প বয়সেই এমন পরিশ্রম নজিরবিহীন।

২০২৪ সালে ইউরোপের সেরা অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলার হিসেবে ‘গোল্ডেন বয়’ পুরস্কার জিতেছেন ইয়ামাল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ইউনিয়ন ফিফপ্রো প্রকাশিত ‘অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং অরক্ষিত — খেলোয়াড়ের স্বাস্থ্য এবং পারফরম্যান্সের প্রভাব’ –বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে ইয়ামালের উদাহরণ ব্যবহার করে তরুণ খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত চাপের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

ফিফপ্রোর হাই-পারফরম্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ড. ড্যারেন বার্জেস বলেন, ‘১৬ থেকে ২০ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের শরীর এখনো পুরোপুরি পরিণত নয়। অতিরিক্ত ম্যাচ ও অনুশীলনের চাপ তাদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।’

ইয়ামালের খেলার পরিসংখ্যান তুলনামূলকভাবে ভয়াবহ। মাত্র ১৭ বছর ৭ মাস বয়সে তিনি ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সে ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলকও স্পর্শ করেন। একই বয়সে তার সতীর্থ পাও কুবারসি খেলেছেন ৬৯ ম্যাচ, গাভি ৬০ ও পেদ্রি মাত্র ৪৯টি ম্যাচ। এমনকি আগের তিন গোল্ডেন বয় বিজয়ী—জুড বেলিংহ্যাম (৬,২১৬ মিনিট), গাভি (৪,১৯৫) ও পেদ্রি (৩,৮১১)—কারও সংখ্যাই ইয়ামালের কাছাকাছি নয়।

এই অতিরিক্ত চাপই যেন এখন ইয়ামালের বড় শত্রু। ট্রান্সফারমার্কটের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত ইয়ামাল ইতোমধ্যে ১৩৩ দিন ইনজুরির কারণে বাইরে ছিলেন। সর্বশেষ ইনজুরিতে তিনি স্পেনের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো মিস করবেন এবং ২৬ অক্টোবরের এল ক্লাসিকোতেও খেলা অনিশ্চিত।বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক বলেছেন, ‘এই ইনজুরি সহজ নয়। আমরা জানি না সে দুই, তিন বা চার সপ্তাহে ফিরতে পারবে কি না। আমাদের তার খেলার সময় নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

স্পেন দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য ফ্লিকের সমালোচনাকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেছেন, যা দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে। ফুটবলবিশ্বে এই চিত্র নতুন নয়। ওয়েন রুনি ও মাইকেল ওভেনও তরুণ বয়সে অতিরিক্ত খেলার কারণে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তারা দুজনই ৩০ পেরোতে না পেরেই আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে ছিটকে যান। ড. বার্জেস সতর্ক করেছেন, ‘তরুণদের শরীর এখনো বিকাশমান অবস্থায় থাকে। অতিরিক্ত ম্যাচ, অনুশীলন ও কম বিশ্রাম তাদের ক্যারিয়ার অকালেই শেষ করে দিতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত