দরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ভ্যাকসিন

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১২:৫৭ এএম

আমাদের দেশে দুর্নীতি এক ভয়ানক ব্যাধি। এতে আক্রান্ত প্রায় সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রভাবশালী ছদ্মবেশী ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার গোষ্ঠী যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ রোগে আমরা ভুগছি, স্বাধীনতার পর থেকেই। স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যা দুর্নীতিসুরে পরিণত হয়েছে। একে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব। কারণ, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সময় সরকারের একটি শক্তিশালী পক্ষ ছায়া হয়ে দুর্নীতিতে মদদ দিয়েছে। যে কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা গচ্চা গেছে দেশের। সেখান থেকে অবস্থান অনুযায়ী হয়েছে, অর্থের ভাগবাটোয়ারা। মনে করার কোনো কারণ নেই সেই সময়ের সরকারপ্রধান এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। হয়তো জানতেন, কিন্তু ভাবটা এমন যে কই, আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না! এভাবেই দুর্নীতি দিনে দিনে ভয়ংকর পর্যায়ে গেছে। একে কেবল তখনই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, যখন কঠোর নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগ করে শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। আজ পর্যন্ত তা হয়নি, কবে হবে কেউ জানে না। কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করে, দুর্নীতি দমন করা সম্ভব না। দেশপ্রেম এবং দায়বদ্ধতা না থাকলে, কোনো সরকারের পক্ষে দুর্নীতি নির্মূল করা অসম্ভব।

চলতি বছরের মার্চ মাসে জানা গেছে করোনা ভাইরাসের টিকা কেনার নামে রাষ্ট্রের ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো ফার্মার ভাইস  চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, করোনার ভ্যাকসিন ক্রয়কে কেন্দ্র করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং অন্যদের  নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি অসাধু সিন্ডিকেট ২২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। দেশব্যাপী এ রকম অর্থ আত্মসাতের ঘটনা বিভিন্ন জেলায় অজস্র। হয়তো অর্থের পরিমাণ কম-বেশি। এবার জানা যাচ্ছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গবাদিপশুর তড়কা রোগ (অ্যানথ্রাক্স) প্রতিরোধে ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। তবে ভয়ভীতি দেখিয়ে সরকার নির্ধারিত ৮০ পয়সার ভ্যাকসিনের দাম আদায় করা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। নির্ধারিত মূল্যের বাইরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপজেলার প্রায় ২ লাখ পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা। সেই হিসেবে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করবেন ভ্যাকসিন কার্যক্রমে জড়িতরা। খামারিদের অভিযোগ, সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্স মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত শতাধিক গবাদিপশু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কুমার দে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আনুষঙ্গিক খরচের জন্য ১০ টাকা নিতে বলা হয়েছে। এর বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ভয় দেখানো হচ্ছে না, বরং টাকা দিতে অক্ষম হলেও ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।’

এ এক দুঃখজনক প্রবণতা। আজ পর্যন্ত যত দুর্নীতি, অপরাধ এবং অন্যায়ের সংবাদ মিডিয়াতে এসেছে, তখন সরকারি অনেক কর্মকর্তা বলেছেন এ বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি, আমরা জেনেছি। আবার কেউ দুর্নীতির পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কেউ পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। কেউ বলেছেন প্রমাণিত অপরাধীর কঠোর শাস্তি হবে। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে হাওয়াই মিঠাই। কিছুদিন পর সব ঠিক হয়ে গেছে। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর। যে কারণে দুর্নীতির চারা বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। কীভাবে তার শেকড় উৎপাটন করা হবে, কেউ জানে না। সময় এসেছে,  দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘ভ্যাকসিন’ তৈরি করার। যে সরকার এমনটি পারবে তাকেই দেশের মানুষ গ্রহণ করবে সাদরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত