সাত গোলের থ্রিলার সত্ত্বেও হারের কষ্ট

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:১২ এএম

আবারও আশা জাগিয়ে নিরাশার সাগরে ডুব দেওয়া। আরেকটি ম্যাচ যুক্ত হলো আক্ষেপের দীর্ঘ তালিকায়? এমনটা আর কতদিন? জাতীয় স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচের শেষ হাসিটা হাসতে পারত বাংলাদেশ। দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে অন্তত একটা পয়েন্ট পাওয়ার দোড়গোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু বাংলাদেশের আরেকটি অসাধারণ প্রচেষ্টা মøান হয়েছে রক্ষণের অসতর্কতা আর শিশুতোষ ভুলে। যে সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাত গোলের থ্রিলার ৪-৩ গোলে জিতে নিয়েছে হংকং, চায়না।

স্বাগতিক বাংলাদেশের আতিথিয়তা নিয়ে ম্যাচের আগের দিন প্রশ্ন তুলেছিলেন হংকং, চায়নার ব্রিটিশ কোচ অ্যাশলে ওয়েস্টউড। নিয়ম না মেনে ম্যাচ ভেন্যুতে টানা ৯ দিন অনুশীলন করেছে স্বাগতিকরা এমন অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। প্রতিপক্ষ কোচের অভিযোগে প্রলেপ দিতেই যেন বৃহস্পতিবার জাতীয় স্টেডিয়ামে আতিথিয়তার কমতি রাখল না বাংলাদেশ। শুরুতে এগিয়ে যাওয়ার পরও হাভিয়ের কাবরেরার দল ৩-৪ গোলের জয় উপহার দিয়েছে হংকংকে। নিজেদের পোস্টে শেষ দুবার বল প্রবেশে যতটা অবদান হংকংয়ের ফুটবলারদের, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব পাবেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ঝলকে লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ফিরল গোল হজমের পুরনো ব্যামো। এরপর দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পরপরই সোহেল রানা জুনিয়রের শিশুতোষ ভুলে লিড পায় হংকং। আর ৭৪ মিনিটে অতিথিদের গোল উপহার দেন সাদ উদ্দিন। এরপর শেখ মোরসালিনের সুযোগ সন্ধানী গোলে লড়াইটা জিইয়ে রাখে। যোগ করা সময়ে শমিত সোমের গোলে ড্রয়ের হাতছানিও দেখছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে ফের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হংকংকে দারুণ জয় উপহার দেন বদলি হ্যাটট্রিক ম্যান রাফায়েল মার্কিস। এই হারে বাংলাদেশকে অনেকটাই ছিটকে দিয়েছে মূলপর্বের রেস থেকে।

সাবধানি শুরুর চিন্তায় হাভিয়ের কাবরেরা নেন ৪-৪-২ ফরম্যাশন। তার শুরুর হিসাবে ছিলেন না শমিত সোম, ফাহামিদুল ইসলাম, জামাল ভূঁইয়ারা। ধারে-ভারে এগিয়ে থাকা হংকং শুরু থেকেই ছিল বলের নিয়ন্ত্রণে। সপ্তম মিনিটে বামপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠেছিল হংকং। ফরোয়ার্ড মাত ওর শটও নিয়েছিলেন। তবে তার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে প্রথম সুযোগটাই কাজে লাগিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের দর্শকের টইটুম্বুর গ্যালারি উন্মাতাল করে দেন হামজা চৌধুরী। বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁকানো ফ্রি-কিক মাত ওর মাথা ছুঁয়ে জালে জড়ায়। এটি ছিল দেশের জার্সিতে হামজার দ্বিতীয় গোল। প্রথমটি গত ৪ জুন করেছিলেন ভুটানের বিপক্ষে।

এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বাংলাদেশে পায়ে। মাঝমাঠ দখলে রেখে তারা বিল্ড-আপ ফুটবলে খেলাটা এগিয়ে নিয়েছিল। আবার নিয়মিত আক্রমণেও যাচ্ছিল। দলের লিড ধরে রাখতে হামজা এ সময়টায় সহজাত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের কাজটাই করেছেন। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে বক্সের বাইরে বল পেয়েছিলেন হামজা। তবে হংকংয়ের ডিফেন্ডাররা তাকে শট নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করতে পারত বাংলাদেশ। তবে শেষ মুহূর্তে মনোযোগ নড়ে যাওয়ার রোগ ফিরে আসায় হংকং পেয়ে যায় গোলের দেখা। ফয়সাল আহমেদ ফাহিম হেড করে নিজেদের গোলমুখে বল ফেলেন, অফসাইড ফাঁদের ফাঁকায় ছিলেন অতিথি দলের দুই ফুটবলার, যার একজন ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত এভারটন কামারগো। সুঠামদেহী উইঙ্গার আলতো টোকায় বল জালে জড়ান।

বিরতির থেকে ফিরেই সোহেল রানার শিশুতোষ ভুলে পিছিয়ে যেতে হয় বাংলাদেশকে। ৫০ মিনিটে হংকংকে লিড এনে দেন বিরতির পর বদলি হিসেবে নামা ফরাসি বংশোদ্ভূত রাফায়েল মার্কিস। এ গোলের উৎস ছিল সোহেল রানার ক্ষমার অযোগ্য এক ব্যাকপাস। নিজেদের বক্সের সামনে থেকে কী বুঝে যে তিনি ব্যাকপাস দিলেন তা তিনিই জানেন। এমন উপহার পেয়ে রাফায়েল গোল করতে ভুল করেননি। পিছিয়ে পড়ার বাংলাদেশ মরিয়া চেষ্টা করেছিল ম্যাচে ফেরার। তবে সাদ উদ্দিনকে নির্বুদ্ধিতায় হংকং ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় ৭৪ মিনিটে। ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন এভারটন কামারগো। তাকে মার্কিং করছিলেন সাদ উদ্দিন। বেশ কিছু সময় বল নিয়ন্ত্রণে রেখে সাদ উদ্দিনের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল গোলমুখে ঠেলেন। আনমার্কড রাফায়েল মার্কিস আলতো টোকায় দ্বিতীয় গোলের দেখা পান। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে ব্যবধান কমিয়েছিলেন মোরসালিন। বদলি নামা জামাল ভূঁইয়ার ফ্রি-কিক হংকংয়ের এক ডিফেন্ডার হেড করে ক্লিয়ার করেন। ফিরতি বল ভলি করে গোলমুখে পাঠিয়েছিলেন আরেক বদলি ফাহামিদুল। সেই বল হংকংয়ের কিপার ইয়াপ হুং ফাইয়ের গ্লাভস ফসকালে আলতো টোকায় বল জালে পাঠান মোরসালিন। শেষ দিকে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করেছিলেন কোচ। বিশেষ করে শমিত সোম, জায়ান, ফাহামিদুলরা মাঠে এসে হংকংকে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে মোরসালিনের কর্নার হংকংয়ের এক ডিফেন্ডারের মাথা ঘুড়ে গোলমুখে এলে তাতে হেড করে বাংলাদেশকে সমতায়ও ফিরিয়েছিলেন শমিত সোম। তবে বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে শাকিল আহাদ তপু ও সাদের সমন্বিত ভুলে মার্কিস হ্যাটট্রিক পূরণ করে হংকংকে পাইয়ে দেন মূল্যবান তিন পয়েন্ট।

আর বাংলাদেশকে পুড়তে হয় আরেকটি হারের হতাশায়। তিন ম্যাচ থেকে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে এখন নিশ্চই আর গ্রুপসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ নেই কাবরেরার বাংলাদেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত