হাত-পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার, পকেটে মিলল চিরকুট

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪৮ পিএম

রেললাইনে পড়েছিল পাঞ্জাবি ও টুপি। হাত-পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন রক্তমাখা দেহ দেখে ছিল না চেনার উপায়। পাঞ্জাবির পকেটে দুটি চিরকুট পায় পুলিশ। একটিতে লেখা ‘আমি মরে যাওয়াতে কাউকে দায়ী করবেন না।’ অন্যটিতে লেখা নিহতের নাম, ঠিকানা ও পরিবারের মোবাইল নম্বর। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সরিষা ইউনিয়নে।

সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর বাজারসংলগ্ন চট্টগ্রামগামী চলন্ত বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আব্দুল সালাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তির হাত-পা ও মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে মহেশপুর এলাকার রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত সালামের বাড়ি নেত্রকোনার মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলার আঠারবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখি লোকটির দেহ তিন খ- হয়ে রেলপথে পড়ে আছে। পরে আমরা কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ বিষয়টি অবগত করি।’

চিরকুটে লিখে যাওয়া মোবাইল নম্বরে কল দিলে নিহতের ভাবি পান্না আক্তার বলেন, তিনি বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে বের হন। তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তাকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। তার সংসারে স্ত্রী ও তাবাসসুম নামে সাড়ে তিন বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘বিজয় ট্রেনে কাটা পড়ে আব্দুস সালামের ডান পা, বাঁ হাত ও মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চলন্ত ট্রেনের গতিতে তার সমস্ত শরীর থেঁতলে গেছে। নিহতের পরিহিত পাঞ্জাবির পকেটে দুটি চিরকুট পাওয়া যায়। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের আওতাধীন হওয়ায় আমরা তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছি। তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

এ প্রসঙ্গে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে থানার ওসি বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, ‘নিহত সালাম একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী ছিলেন। তার চিকিৎসার কাগজপত্র আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত