সন্ধানে মন নেই কিনতে পটু

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৫ এএম

গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার আভাস পাওয়ার পরও নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোর না দিয়ে উচ্চমূল্যের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানিতে ব্যাপক আগ্রহ ছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের। আমদানিনির্ভর হওয়ায় এখন বাধ্য হয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। যার পরিমাণ সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ।
এদিকে প্রতি বছরই কমছে গ্যাসের উৎপাদন। বিপরীতে বাড়ছে গ্যাসের চাহিদা। নতুন গ্যাস না পেলে মজুদ গ্যাস গ্যাস দিয়ে আট-নয় বছর চলতে পারে। এলএনএনজি আমদানিতে বিপুল ব্যয় হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভে চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। চাপ সামলাতে বিগত সরকার চার বছরে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে পাঁচবার। বেশি দাম দিয়েও চাহিদামতো গ্যাস মিলছে না।
এজন্য বিগত সরকারকে দায়ী করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানে অবহেলার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাগরে ও স্থলে গ্যাসের সম্ভাবনা থাকলেও তা আমলে না নিয়ে তৎকালীন সরকারের মনোযোগ বেশি ছিল এলএনজি আমদানিতে। কারণ এর সঙ্গে অনেকেরই কমিশন-বাণিজ্যের সম্পর্ক ছিল।
দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধির নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি চুরি ও অপচয় রোধের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বছরে দৈনিক ২০০
দেশে গ্যাস উত্তোলন কমেছে এলএনজি আমদানি বেড়েছে
মিলিয়ন (২০ কোটি) ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন কমছে। অন্যদিকে চাহিদা বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলএনজি আমদানি বেড়েছে।
তিনি বলেন, রাতারাতি গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। কিছু কূপ সংস্কারে সামান্য পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেছে। স্থলে ও সাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু কূপ সংস্কার এবং অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাপেক্সকে (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড) শক্তিশালী করতে নতুন রিগ (কূপ খনন যন্ত্র) কেনা হয়েছে।
আপাতত পরিস্থিতি সামাল দিতে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে স্থলভাগে একটি টার্মিনাল নির্মাণের পাশাপাশি গ্যাস চুরি ও অপচয় রোধ করে গ্যাসের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানান জ্বালানি উপদেষ্টা।
এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হলে নতুন করে আরও টার্মিনাল, পাইপলাইন নির্মাণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে হবে বাংলাদেশকে, যা সময়সাপেক্ষ।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রতিবেদনে বাংলাদেশে অর্থনীতির জন্য পাঁচটি ঝুঁকির মধ্যে জ্বালানি স্বল্পতাকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরূল ইমাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'পটপরিবর্তন হলেও
গত এক বছরে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন হয়নি। দেশের এই বড় সংকটে আমাদের মূল কাজ হলো গ্যাসের অনুসন্ধান কাজটা হাতে নেওয়া। কিন্তু সবাই এটি এড়িয়ে যায় নানান অজুহাতে। বর্তমান সরকারের সময়ে এ ব্যাপারে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। অথচ আমাদের দেশে গ্যাস পাওয়ার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।'
তিনি বলেন, 'নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতির যথেষ্ট মিল রয়েছে। তারা বিপুল পরিমাণ পরিমাণ গ্যাস গ্যাস উত্তোলন উত্তোলন কর করছে। আমাদেরও সেই সুযোগ রয়েছে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমার বঙ্গোপসাগর থেকে ব্যাপক হারে তেল-গ্যাস উত্তোলন করলেও আমরা সেখানে অনুসন্ধানই শুরু করতে পারেনি।'
'গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোনো কোনো ক্ষেত্রে সময় সাপেক্ষ কিন্তু শুরু করতে হবে। ভাগ্য ভালো হলে ছয় মাসের মাথায়ও বড় গ্যাসের মজুদ পাওয়া যেতে পারে'- যোগ করেন এ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। এলএনজি আমদানিতেই বেশি ঝোঁক: অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত দেশের জন্য যে চরম হুমকি, তা বহুদিন ধরে বিশেষজ্ঞরা বলে এলেও তাতে কর্ণপাত ছিল না বিগত সরকারের। সব আপত্তি উপেক্ষা করে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে প্রথমবারের মতো এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি শুরু করে। বলা হয়েছিল গ্যাস সংকট কাটাতে তাৎক্ষণিক সমাধান হিসেবে এলএনজি আমদানি করা হলেও অনুসন্ধানেও জোর দেওয়া হবে। কিন্তু এসব যে
সরকারের কথার কথা ছিল, সেই প্রমাণ বাস্তবে মিলছে এখন।
এলএনজি আমদানির জন্য প্রথম চুক্তি হয় ২০১৭সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। কাতার গ্যাসের সঙ্গে ১৫ বছরমেয়াদি ওই চুক্তির আওতায় ২০১৮ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় আমদানি। ২০১৮ সালের ৬ মে ওমানের কিউ কিউ ট্রেডিং লিমিটেডের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি আরেকটি চুক্তি করে সরকার। এলএনজি আমদানি শুরু হয় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের বাইরে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে খোলা বাজার থেকেও এলএনজি আমদানি শুরু হয়।
আমদানিকৃত এসব এলএনজি পুনরায় গ্যাসে পরিণত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এটি করা হয় কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা আইনের ওপর ভর করে।
আমদানির সক্ষমতা আরও বাড়াতে বিশেষ বিধানের আওতায় প্রতিযোগিতা ছাড়াই নতুন আরও কিছু এলএনজি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল বিগত সরকার। দায়মুক্তি আইন হিসেবে পরিচিত এ আইনটি অবশ্য অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে।
এলএনজি আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৪-২৫ পর্যন্ত সাত অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। এতে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৬৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ৪১ কার্গো (১ লাখ ৩১ হাজার ৬০৬ মিলিয়ন ঘনফুট) এবং পরের অর্থবছরে আমদানি করা হয় ৬৬ কার্গো (২ লাখ ১৬ হাজার ৯১৩ মিলিয়ন ঘনুফট) এলএনজি। আমদানি বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৯৪ কার্গোতে (৩ লাখ ২ হাজার ৪৮১ মিলিয়ন টন)। সর্বশেষ চলতি অর্থবছরে গত আগস্ট পর্যন্ত দুই মাসে ২১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৬৮ হাজার ১২০ মিলিয়ন টন। অর্থবছর শেষে এটি ১২৪ থেকে ১২৬ কার্গোতে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া গ্যাস খাতে বকেয়া ছিল প্রায় ৭৫ কোটি ডলার। যার মধ্যে এলএনজি আমদানিতে বকেয়া ৪৩ কোটি ডলার ছিল। বকেয়া পরিশোধে দেরি হওয়ায় বছরে ৫০ থেকে ৬০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুনতে হতো সরকারকে। আবার বিল পরিশোধে দেরি হবে ভেবে সরবরাহকারীরাও দরপত্রে বেশি দর দিত। বকেয়ার ভয়ে বেশি প্রতিষ্ঠানও দরপত্রে অংশ নিত না। এতে জ্বালানির খরচও বেড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরনো সব বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি এলএনজি আমদানি বাড়িয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধানে চরম অবহেলা: এলএনজি আমদানি শুরুর পর ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান ও উন্নয়ন মিলে মাত্র ২০টি কূপ খনন করা হয়েছে। যার মধ্যে ১২টি অনুসন্ধান এবং ৮টি উন্নয়ন কূপ। অথচ কয়েক দফায় প্রায় ১৫০টি কুপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বহুমাত্রিক জরিপেও সে সম্ভাবনা দেখা গেছে। কিন্তু সমুদ্রসীমা বিজয়ের এক যুগ পরও সেখানে গ্যাস অনুসন্ধান শুরুই হয়নি এখনো। অথচ ভারত এবং মিয়ানমার তাদের অংশে বিপুল পরিমাণ গ্যাস উত্তোলন করছে।
পেট্রোবাংলা বলছে, ২০২২ সালে অনুসন্ধান, সংস্কার ও উন্নয়ন মিলিয়ে ৫০টি কূপ খননের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তা করা গেলে জাতীয় গ্রিডে দিনে প্রায় ৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ কূপ খনন না করায় সেখান থেকে মাত্র ১ কোটি ৯৪ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হয়েছে, যার মধ্যে ৭২ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এর আগে ২০১৬ সালে পাঁচ বছরে ১০৮টি কূপ খননের একটি ঘোষণা দিয়েছিল পেট্রোবাংলা, কিন্তু সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি।
বাপেক্স জানায়, দ্বীপ জেলা ভোলায় তিনটি কূপ খননের কাজ আগে থেকেই করছিল তারা। তিনটিতেই গ্যাস পাওয়া গেছে। ভোলার তিনটি কূপে দৈনিক ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করা গেলেও পাইপলাইনের অভাবে তা জাতীয় গ্রিডে নেওয়া যাচ্ছে না।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, এখন সংস্কার, উন্নয়ন ও নতুন খনন মিলিয়ে ৫০টি কূপের প্রকল্প চলমান আছে। এ ছাড়া অনুসন্ধান, সংস্কার ও উন্নয়ন কূপ মিলিয়ে ১০০টি কূপের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। যার মধ্যে অগ্রাধিকার বিবেচনায় ৩১টি কূপ সংস্কারে জোর দেওয়া হচ্ছে। গ্যাস উৎপাদনে অধিকাংশ কূপের চুক্তি হয়ে গেছে। বেশ কিছু কূপের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী নভেম্বর থেকে প্রতি মাসেই নতুন কিছু গ্যাস যুক্ত হবে। এ ছাড়া আগামী বছর থেকে আরও ১০০ কূপ খননের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে আগামী দুই থেকে তিন বছরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনারয়েছে। শীলদের দৈনিক
মজুদ ফরাচ্ছো চাহিদা বাড়ছে: একসময় দেশীয় উৎস থেকে প্রায় ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেলেও ২০১৭ সালে তা ছিল ২৭০ কোটি ঘনফুটের আশপাশে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কমে গড় উৎপাদন ছিল অন্তত ২৬০ কোটি ঘনফুট। পরের বছর প্রায় ২২ কোটি ঘনফুট কমে যায়। ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন কমতে থাকায় এটি এখন ১৮০ কোটির নিচে নেমেছে। নতুন করে গ্যাস না পেলে উৎপাদন আরও কমবে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের মজুদ রয়েছে প্রায় ৮ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট)। প্রতি বছরই এ মজুদ কমছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খনিতে শেষদিকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গ্যাস রেখে উত্তোলন বন্ধ করে দিতে হয়। কারণ, সেই গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য থাকে না, কিন্তু মজুদের হিসাবে ধরা হয়। এসব বিবেচনায় নিয়ে মজুদ গ্যাস দিয়ে আর আট বছরের মতো চলতে পারে।
উৎপাদনের শীর্ষে থাকা গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। দেশীয় উৎপাদনের ৫০ শতাংশের বেশি জোগান দেওয়া গ্যাসক্ষেত্রটি থেকে দুই বছর আগেও দিনে ১৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হলেও এখন তা নেমে এসেছে ৯০ কোটি ঘনফুটে। রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক অন্য গ্যাসক্ষেত্রেরও উৎপাদন কমছে দিনে দিনে।
পেট্রোবাংলার সূত্রমতে, ২০২৪ সালের আগস্টে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির মালিকানাধীন ১৬টি গ্যাসক্ষেত্রে ৭৩টি কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। গত মাসে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে। এই এক বছরে বহুজাতিক কোম্পানির মালিকানাধীন চারটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাসের উৎপাদন ১২৩ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ১০৮ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। অর্থাৎ এক বছরেই দেশের সামগ্রিক গ্যাস উৎপাদন কমেছে ২৫ কোটি ঘনফুট।
এলএনজি আমদানির অর্থবছরে (২০১৮-১৯) দেশের অভ্যন্তরে মোট গ্যাসের উৎপাদন হয়েছে ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৩১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। উৎপাদন কমতে কমতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৬ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সাত বছরে দেশীয় উৎপাদন কমেছে প্রায় ২ লাখ ৬৯ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।
এর বিপরীতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০১৮ সালে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ছিল গড়ে ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এখন তা বেড়ে ৫৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে (কারখানায় অনুমোদিত প্রতিশ্রুতি গ্যাসসহ) দাঁড়িয়েছে। যদিও সংকট না থাকলে চাহিদা আরও বাড়ত। এ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট আসছে আমদানিকৃত উচ্চমূল্যের এলএনজি থেকে।
বাড়তি ব্যয় মেটাতে দফায় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাজারভেদে দেশীয় গ্যাসের চেয়ে আমদানিকৃত এলএনজির দাম ১৫ থেকে ২০ গুণ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া প্রতি ইউনিট গ্যাসের গড়মূল্য পড়েছে ৩.৩৯ টাকা। একই পরিমাণ গ্যাস আমদানিতে খরচ পড়েছে ৩৮.৭১ টাকা। ওই অর্থবছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।
এলএনজি আমদানির এ বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে সরকারের ভর্তুকি যেমন বাড়ছে, তেমনি দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের দাম। একইভাবে বিদ্যুতের দামও বাড়ানো হয়েছে কয়েকবার।
এলএনজি আমদানির পরের বছর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত চার বছরে পাঁচবার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বিগত সরকার। ২০২২ সালে ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবি করে প্রয়োজনে বাড়তি দাম দেওয়ার কথা বলেছিলেন। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সরকার গ্যাসের দাম ১৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু গ্যাসের সংকট কাটেনি। এখন ব্যবসায়ীদের বাড়তি দাম দিতে হচ্ছে, কিন্তু কারখানা চালাতে দুর্ভোগ রয়েই গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত