রাকসু নির্বাচনে অনিশ্চয়তা কাটল

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৫, ০২:২২ পিএম

দীর্ঘ অচলাবস্থা ও আন্দোলনের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ—রাকসু নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে তৈরি হওয়া শঙ্কা অবশেষে কেটে গেছে। 

শিক্ষক ও কর্মকর্তারা আপাতত কোনো নতুন কর্মসূচি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়ায় ১৬ অক্টোবরের নির্ধারিত নির্বাচন ঘিরে স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজও বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের একাধিক বৈঠকের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম জানান, “প্রশাসনের অনুরোধে আমরা আপাতত রাকসুর আগে আর কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। নিরাপত্তা ও দায়ীদের শাস্তির বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ায় আমরা ইতিবাচক হয়েছি।”

একই অবস্থান নিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স সমিতির সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন বলেন, “নির্বাচনের আগে কোনো কর্মসূচি দেওয়া ঠিক হবে না। এতে ভোটের পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। আমরা দায়িত্ব পালন করব এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা দেব।”

রাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম জানান, “শিক্ষক ও কর্মকর্তারা নির্বাচনে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তাই নির্বাচন নিয়ে এখন আর অনিশ্চয়তা নেই।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগেই তৎপর ছিল যাতে রাকসুর আগে কেউ নতুন কর্মসূচি না দেয়। গত ৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর উপাচার্যের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বৈঠকে একই আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে অফিসার্স সমিতি ও জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম তাদের কর্মসূচি স্থগিত করে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৮ সেপ্টেম্বর, যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দশটি শর্তে পোষ্য কোটা পুনর্বহাল করে। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

পরে শিক্ষক ফোরাম ও কর্মকর্তারা আন্দোলনে নামে। প্রশাসন জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে পোষ্য কোটা স্থগিত ও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রাকসু নির্বাচন স্থগিত করতে হয়। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ১৬ অক্টোবর।

নির্বাচন ঘিরে শঙ্কা কেটে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরাও।
‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর উদ্দীন বলেন, “শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখন ভোটের আমেজ। কেউ বাধা দিলেও নির্বাচন বন্ধ হবে না।”

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “রাকসু আমাদের সবার অধিকার। এই নির্বাচন সময়মতো হওয়া দরকার, এবং আমরা তা নিশ্চিত করব।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত