ইতালির বিপক্ষে ৩-০ গোলের হারে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে গেছে ইসরায়েল। মাঠের ফলাফলের বাইরে এই হারের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনেও—কারণ, ইসরায়েল বাদ পড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজকরা।
কয়েকদিন আগেই ইউরোপীয় ফুটবলে ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিল স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দেশগুলো। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ কাতার, যারা উয়েফার অন্যতম বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। উয়েফার টুর্নামেন্টগুলোর সম্প্রচার স্বত্ব ও প্রধান স্পন্সরদের বড় অংশই কাতারভিত্তিক হওয়ায় সংস্থাটির ওপর কাতারের প্রভাব অনেক। কাতারের এমন চাপের ফলেই গেল মাসে উয়েফার শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন ইসরায়েলকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে।
একই সময় ফিফার ওপরও আসে অনুরূপ চাপ। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা তখনই জানিয়ে দেয়—ইসরায়েলকে সরাসরি নিষিদ্ধ করার পক্ষে তারা নয়। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিল সভায় প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তা ভূ-রাজনৈতিক সমস্যা। ফিফা কেবল শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান জানাতে পারে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে নয়।”
এমন উত্তেজনাকর প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার ইতালির উদিনেতে অনুষ্ঠিত হয় ইতালি-ইসরায়েল ম্যাচটি, যা ছিল নিরাপত্তার দিক থেকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। পুরো শহরজুড়ে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা—আকাশে হেলিকপ্টার ও ড্রোন টহল, স্টেডিয়াম ও হোটেলের ছাদে অবস্থান নেয় স্নাইপাররা। ইসরায়েল দলের বাসকে ১৩টি পুলিশ গাড়ি ও বিশেষ বাহিনীর মোটরসাইকেল বহরের নিরাপত্তায় স্টেডিয়ামে আনা হয়।
ম্যাচের আগে প্রায় ১০ হাজার মানুষ অংশ নেয় ফিলিস্তিনপন্থি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে। শেষ দিকে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়, পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
২৫ হাজার আসনের ফ্রিউলি স্টেডিয়ামে দর্শক ছিল ১০ হাজারেরও কম। ইসরায়েলের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় কিছু দর্শক ‘দুয়ো’ দিলেও, অনেকেই হাততালি দিয়ে তা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
খেলায় ইতালি ছিল সম্পূর্ণ আধিপত্যে। বিরতির আগে পেনাল্টি থেকে গোল করেন মাতেও রেতেগুই, পরে ৭৪ মিনিটে করেন দ্বিতীয় গোল। যোগ করা সময়ে হেডে তৃতীয় গোল করেন জিয়ানলুকা মানচিনি।
এই জয়ে অন্তত প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে ইতালি। আর হারের ফলে বাছাইপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে ইসরায়েল—যা আয়োজক দেশগুলো ও উয়েফার জন্য বড় স্বস্তির খবর। কারণ, ইসরায়েল টিকে থাকলে রাজনীতি, নিরাপত্তা ও কূটনীতির জটিলতা আরও বাড়তো। ৱ
ম্যাচ শেষে ইতালি কোচ জেনারো গাত্তুসোও বলেন, “আজকের দিনটা সহজ ছিল না। পুলিশের অসাধারণ কাজের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। গত কয়েকদিন ধরে পরিবেশ ছিল অশান্ত, এমন অবস্থায় খেলাটা সহজ ছিল না।”
জোড়া গোল করে বাছাইপর্বের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোনালদো
মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে ১৫৫ নম্বর দলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গোল উৎসব