সীমান্তে নতুন করে লড়াই-সংঘর্ষের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আপাতত ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। দুই দেশই অচলাবস্থার অবসানে সংলাপের মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজে পাওয়ার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবে।
গত শনি ও রবিবার সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে লড়াইয়ে হতাহতের ঘটনার পর গতকাল সকালে আবার দুপক্ষে নতুন করে লড়াই হয়। পাকিস্তানের চমন জেলা এবং দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের স্পিন বোলডাক এলাকা জুড়ে থাকা প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় দুপক্ষের মধ্যে এ লড়াইয়ে কয়েক ডজন মানুষ হতাহত হয়েছে। এরপরই এলো যুদ্ধবিরতির ঘোষণা।
লড়াইয়ের জন্য উভয়পক্ষই একে অন্যকে দোষারোপ করেছে। এক্সে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আজ (বুধবার) সকালে পাকিস্তানি বাহিনী হামলা শুরু করে। তাদের হামলায় ১২ জনেরও বেশি বেসামরিক নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছে।’
তালেবান দাবি করেছে, তারা ‘অনেক পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে’, তাদের অনেক সীমান্ত চৌকি ও কেন্দ্র দখল করেছে এবং তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও ট্যাংক জব্দ করেছে আর তাদের অধিকাংশ সামরিক স্থাপনা ‘ধ্বংস’ করেছে।
ওদিকে, পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সংঘর্ষের জন্য তালেবানকে দায়ী করে জানান, এতে তাদের সীমান্তে চার বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছে।
পাকিস্তানের চমন জেলার আঞ্চলিক প্রশাসক হাবিব উল্লাহ বাঙ্গুলজাই রয়টার্সকে বলেন, ‘চমনের কাছে পাকিস্তানি সীমান্ত চৌকিগুলোতে হামলা চালিয়েছে তালেবান।’ তিনি জানান, বুধবার ভোররাতে শুরু হওয়া এ লড়াই পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে। পাকিস্তানি বাহিনী হামলা ‘প্রতিরোধ’ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ২৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত থাকালেও এর অনেক এলাকা অনির্ধারিত। এসব এলাকায় দুপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখল করার পর থেকে সীমান্তে এবারই সবচেয়ে মারাত্মক লড়াই হয়েছে।
সম্প্রতি পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার ঘটনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে। এসব হামলায় দেশটির সামরিক বাহিনীর বহু সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব হামলার জন্য আফগানিস্তান থেকে আসা জঙ্গিদের দায়ী করে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের নিরাপদ আস্তানা থেকে এসে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনকে এসব জঙ্গির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দেয় ইসলামাবাদ। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে তালেবান জানায়, আফগানিস্তানে কোনো পাকিস্তানি জঙ্গি নেই।
