শাহানা আক্তার মনি, বয়স ২০ বছর। বাউফল উপজেলার কালিশুরী ডিগ্রী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাবা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিডিআর’র (বিজিবি) একজন ল্যান্স নায়েক। ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রহের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর কারা ভোগের পর গত বুধবার সকাল সাড়ে ১২টায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন তিনি।
গ্রেপ্তারের সময় মনি’র বয়স ছিলেন ৩বছর। দীর্ঘ সময় কারা ভোগের পর জেল গেটে অপেক্ষমান ৩ বছরের ছোট মনি নন বরং ২০ বছরের তরুণী শাহানা আক্তার মনি। এ যেন এক ঐতিহাসিক বিজয়ের ১৭ বছর পর কন্যার কাছে বাবার প্রত্যাবর্তন। মঞ্জুরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের কবিরকাঠি গ্রামে।
সদ্যমুক্ত মঞ্জুল ইসলাম জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে তিনি গ্রেপ্তার হন ঘটনার ১ দিন পরে। অথচ সেদিন তিনি নাইট ডিউটি শেষে ঘুমে ছিলেন তিনি। হঠাৎ গুলির শব্দে ঘুম ভাঙ্গে তার। উঠে দেখেন সাবাই দিক-বিদিক ছোটাছুটি করছেন। তিনিও কিছু না বুজে সকলের সাথে পিলখানার দেয়াল টপকে দৌড়ে পালান। রাতে পিলখানায় ফিরলে পরের দিন সকালে চারশতাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
এসময় তাদের চোখ বাধা ছিল। কে বা কারা তাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে তারা কিছুই জানেন না বা কাউকে চিনতেও পারেননি। কেন তাদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে বা কি অপরাধে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কোন কিছুই তাদেরকে না বলে শুধু নির্যাতন চালিয়েছে একটি বাহিনী।
দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে আসামি হিসেবে চিহ্নিত করে ৭ বছরের সাজা প্রদান করেন আদালত। ২০১৬ সালে তার ওই সাজার মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু স্বৈর শাসকের হাত থেকে তার জামিন হয়নি। অন্য আরও একটি বিষ্ফোরক মামলায় আটক দেখিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর তাদেরকে অন্যায় ভাবে আটক করে রাখা হয়। ৫ আগস্টের পর তাদের মনে আশার আলো জ্বালে। অবশেষে তিনি মুক্ত হন।
মঞ্জুরুল বলেন, এক সময় পৃথিবীর আলো দেখার আশা ছেরে দিয়েছিলাম। জালিম সরকারের পতন হয়েছে বলে আমরা মুক্ত হতে পেরেছি। মা মারা গেছেন তাকে দেখতে পারিনি। পিলখানার ঘটনায় ৪-৫শত লোক এখনও কারা ভোগ করছেন বলেও জানান তিনি।
অনুভূতি জানতে চাইলে মঞ্জুরুলের কন্যা শাহানা আক্তার মনি আবেগআপ্লুত হয়ে বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারি না। বাবার প্রত্যাবর্তন আমাদের ঐতিহাসিক বিজয় আনন্দের মত মনে হচ্ছে। বাবার অবর্তমানে আমার পরিবার অসাহায় জীবনযাপন করেছি। আমার কোন ভাই নেই। দুই বোন আমারা। আমার বড় বোনের বিবাহ হয়েছে বাবার অবর্তমানে। আমার মামা ছিল আমাদের দেখা-শোনার একমাত্র ভরসা। এক সময় আমার বাবা আমাদের মাঝে ফিরে আসবে সে আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। বাবা ফিরে এসেছে আমরা অনেক খুশি।
