নতুন বাণিজ্যযুদ্ধে জড়াতে পারে চীন-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত এক সপ্তাহ ধরে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়ে কখনো কঠোর আবার কখনো নরম অবস্থান নিচ্ছেন। গত মঙ্গলবার তিনি চীনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেনযেখানে তারা এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন সয়াবিন কেনা বন্ধের করার ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প হুমকি দেন যে, তিনি চীনের সঙ্গে ভোজ্যতেল বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে পারেন।

ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের সয়াবিন কেনা বন্ধ করেছে এবং আমাদের সয়াবিনচাষিদের জন্য সমস্যা তৈরি করছেএটি একটি অর্থনৈতিকভাবে বৈরী পদক্ষেপ।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিশোধ হিসেবে আমরা চীনের সঙ্গে ভোজ্যতেল এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক খাতের ব্যবসা বন্ধ করার কথা বিবেচনা করছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা সহজেই নিজেরাই ভোজ্যতেল উৎপাদন করতে পারি, এটি চীন থেকে কেনার প্রয়োজন নেই।’

সয়াবিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য, যার রপ্তানি আয় প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন ডলার। অরাজনৈতিক কৃষক-নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফার্ম অ্যাকশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এর অর্ধেকেরও বেশিপ্রায় ১২.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিনচীন কিনেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সয়াবিন উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইলিনয়, আইওয়া, মিনেসোটা এবং ইন্ডিয়ানা।

তবে এবার বসন্তকাল থেকে চীন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন কিনছে।

মার্কিন কৃষি দপ্তর (ইউএসডিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র চীন থেকে প্রায় ১২.৭ লাখ টন ব্যবহৃত ভোজ্যতেল আমদানি করেছে, যা চীনের মোট ব্যবহৃত ভোজ্যতেল রপ্তানির প্রায় ৪৩ শতাংশ।

গত ১০ অক্টোবর ট্রাম্প বলেন, চীন বিরল মাটির খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করায় তিনি হয়তো দক্ষিণ কোরিয়া সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন না।

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য অচলাবস্থা নিরসনের আশায় থাকা আমেরিকান সয়াবিন অ্যাসোসিয়েশন (এএসএ) এই সংবাদে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায়। এএসএ সভাপতি ক্যালেব র‌্যাগল্যান্ড বলেন, নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ায় সংস্থা ‘চরম হতাশ’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত