দেশে রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫৯ এএম

জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হলে দেশের রাজনীতিতে সংকট দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ। তবে জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যাননি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদের নেতারা।

জুলাই সনদে স্বাক্ষর শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সূচনা হলো।’ এদিকে জুলাই সনদ স্বাক্ষর জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় দিন বলে আখ্যায়িত করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘আজ শহীদের আত্মত্যাগ, জাতির আকাক্সক্ষা, জনপ্রত্যাশা পূরণের শুরু হলো কেবল। এগুলো পূরণের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্র কাঠামো অর্জন করতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘সবাই জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছে। যারা দুই-একজন স্বাক্ষর করেননি, আশা করি তারাও ভবিষ্যতে করবেন। এটা উন্মুক্ত রাখা আছে।’

বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক সংস্কারের রাষ্ট্রকাঠামো অর্জন করতে পারব। সেই রাষ্ট্রকাঠামোর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হবে। শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্মিত হবে। রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় থাকবে।’ নির্বাচনের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কীভাবে হবে সেটা সংবিধানে লেখা আছে। বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই। এরপরও প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বসতে চাইলে বসা হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বিলম্ব হলে দেশের রাজনীতিতে সংকট দেখা দিতে পারে।’

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘আজ সিগনেচার সিরোমনিটা একটা সুন্দর সমাপ্তির জন্য হয়েছে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে যে ৮৪টি ধারায় আমরা একমত হয়েছি, কেউ কেউ নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন সবচেয়ে ভালো হতো নোট অব ডিসেন্ট ছাড়াই যদি স্বাক্ষর হতো।’

তিনি বলেন, ‘আজকের স্বাক্ষরটাকে সামাজিক চুক্তি বলা হয়েছে, যদিও আইনি ভিত্তি ছাড়া সামাজিক চুক্তি দিয়ে আমাদের প্রত্যাশার পূর্ণতা আসবে না। এখানে একটা চ্যালেঞ্জ এবং সংকট রয়ে গেল।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একটা পর্যায় আমরা শেষ করেছি। এখন সবচেয়ে বড় কাজ এর বাস্তবায়ন। সমসাময়িক সময়ে বিশে^র কোনো দেশে এতগুলো রাজনৈতিক দল মিলে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি-না জানা নেই। আগামীতে কোনো সরকার যেন কর্তৃত্ববাদী হতে না পারে সেক্ষেত্রে জুলাই জাতীয় সনদ ম্যাগনাকার্টা হিসেবে কাজ করবে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো এই সনদ কতটা ধারণ করতে পারবে সেটা দেখার বিষয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষর নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা ধোঁয়াশা, সংশয় তৈরি হয়েছিল। সরকার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবিলা করেছে। এখন এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। দেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।’

ইগো পরিহার করে সরকারের আস্থাভাজন দলগুলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত